নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সত্য, অহিংসা, সরলতা ও স্বদেশির আদর্শ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাপুর চিরন্তন বার্তা দেশকে আরও উন্নত সমাজ এবং বিকশিত ভারত গঠনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “বাপুর চিরন্তন বার্তা আমাদের আরও উন্নত সমাজ এবং বিকশিত ভারতের পথে এগিয়ে যেতে পথ দেখাক।”
এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২ অক্টোবরের গুরুত্ব দেশের প্রতিটি শিশুর কাছেই সুপরিচিত। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাত্মা গান্ধী এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ক্ষমতা থেকে দূরে থেকেছেন। অথচ আজও তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন।” মানবসমাজে গান্ধীর আদর্শের প্রভাব যতদিন থাকবে, ততদিন তাঁর চিন্তাধারা ও আদর্শের প্রাসঙ্গিকতাও বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বদেশি ও খাদির প্রসঙ্গও এদিন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী সবসময় স্বদেশিকে উৎসাহিত করতেন এবং খাদি ছিল স্বদেশির অন্যতম প্রধান প্রতীক। ২ অক্টোবর অন্তত একটি খাদি পণ্য কেনার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গান্ধীজি সবসময় স্বদেশির প্রচার করতেন এবং খাদি ছিল তার অন্যতম প্রধান প্রতীক। ২ অক্টোবর আপনারা যে কোনও একটি খাদি পণ্য কিনুন এবং গর্বের সঙ্গে বলুন, ‘এটি স্বদেশি’।”
অন্য একটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্রদ্ধেয় বাপুর সমগ্র জীবন সত্য, অহিংসা, সহমর্মিতা ও সেবার এক আলোকবর্তিকা। প্রতিটি যুগে যা মানবতার পথ দেখিয়ে যাবে।”
এদিন মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
সমাজমাধ্যমে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, গান্ধী সত্য ও অহিংসার পথ অনুসরণ করে দেশকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং স্বদেশি ও অহিংসার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্বাধীনতার বার্তা দিয়েছিলেন। আত্মনির্ভর ও বিকশিত ভারত গঠনে গান্ধীর আদর্শ, সরলতা ও চিন্তাধারা এখনও পথ দেখাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতি বছর ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী হিসেবে গান্ধী জয়ন্তী পালিত হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনটি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও পালিত হয়।
























