নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি ও নেতা সৌরভ ভরদ্বাজসহ দলের বেশ কয়েকজন কর্মীকে শুক্রবার আটক করল দিল্লি পুলিশ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভরদ্বাজ দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আপ কর্মী ও সমর্থকদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে গোটা দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে, যেন মাহমুদ গজনি আক্রমণ করতে আসছেন। কিন্তু আমি আমাদের সমস্ত তরুণ সঙ্গী, যুবক-যুবতী এবং প্রবীণদের বলতে চাই, আমি একাই এখানে পৌঁছেছি। কোনও গাড়ি, ঘোড়া বা সঙ্গী ছাড়াই এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “মেট্রোর জন্য ১১ টাকা এবং অটোচালককে ৮০ টাকা দিয়েছি। মাত্র ৯১ টাকায় যদি আমি যন্তর মন্তরে পৌঁছতে পারি, তাহলে আমাদের সব সঙ্গীরাও এখানে আসতে পারেন।”
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই বিক্ষোভে জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা উল্লেখ করে নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
এই নির্দেশ অনুযায়ী অনুমতিহীন জমায়েত, প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া, স্লোগান দেওয়া, মিছিল, বিক্ষোভ ও ধর্নার মতো কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নির্দেশ মেনে চলতে এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলাকায় একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভে একাধিক নাগরিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং বিরোধী দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া-এর মতো ছাত্র সংগঠনগুলিও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় জনতা দল, কংগ্রেস এবং আপের প্রতিনিধিরাও অংশ নিতে পারেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ, ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরের কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ প্রচারাভিযান শুরু করারও পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী দলগুলির। জেলা স্তরে মিছিল ও সভার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে এসআইআর নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের বাইরে আরও বড় সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
এসআইআর এবং ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করা হচ্ছে।



















