নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ‘মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি’ নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে ভবিষ্যতে ফাঁসির পরিবর্তে আরও মানবিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি আলোচনা করতে পারবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ‘মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি’ পদ্ধতি বদলের জন্য কোনও বিচারিক নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে।
২০১৭ সালে সিনিয়র আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা এই পদ্ধতির সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিলেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসির বিধান ছিল। বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির পরিবর্তে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস কার্যকর হয়েছে।
আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের ১৯৮৩ সালের সাংবিধানিক বেঞ্চের ‘দীনা দয়াল বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছিল। ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাংবিধানিকভাবে বৈধ পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি’র পরিবর্তে এমন কোনও বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদা রক্ষা হবে এবং যন্ত্রণা কম হবে।
আবেদনকারী মালহোত্রা যুক্তি দেন, মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার জীবনের অধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর বক্তব্য, ফাঁসির পদ্ধতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আরও মানবিক বিকল্প গ্রহণ করা উচিত।
আবেদনে ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে কার্যকরের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট ক্রিমিনাল জাস্টিস প্রোগ্রাম ‘প্রজেক্ট ৩৯এ’-র সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরার মতামতও জানতে চায়। অরোরা জানান, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন পদ্ধতিও সব ক্ষেত্রে সফল বলে প্রমাণিত হয়নি। তিনি বিষয়টি বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
























