গুয়াহাটি, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে অসমের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পড়ুয়াকেন্দ্রিক করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার তিনি জানান, রাজ্যে এমন ‘ভবিষ্যৎ-উপযোগী শ্রেণিকক্ষ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে এআই-এর সাহায্যে পড়ুয়াদের শেখার ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে, শিক্ষকদের সহায়তা করা হবে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সময়মতো সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার ভবিষ্যৎ হবে বুদ্ধিমান, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পড়ুয়াকেন্দ্রিক।” তাঁর মতে, এআই-এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের শেখার সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ছাত্রছাত্রীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রকাশ করা রোডম্যাপ অনুযায়ী, অসমের স্কুলগুলিতে এআই-চালিত উপস্থিতি ও ছাত্রছাত্রীদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের নিয়মিত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের ওপর নজর রাখা যাবে এবং যারা ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষকদের সহায়তার জন্যও এআই-নির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর ক্ষেত্রে এআই-সহায়ক সরঞ্জাম শিক্ষকদের কাজে লাগানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এআই-নির্ভর পড়ার দক্ষতা বা ‘রিডিং ফ্লুয়েন্সি’ মূল্যায়ন চালু করা হবে। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের পড়ার ক্ষমতা যাচাই করার পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা যাবে।
এছাড়াও নির্দিষ্ট সময় অন্তর পড়ুয়াদের মূল্যায়নের জন্য একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রযুক্তিনির্ভর আরও একটি ব্যবস্থা যুক্ত হবে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, স্কুলে শুধু প্রযুক্তি নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। শিক্ষক ও পড়ুয়া উভয়ের হাতে এমন সরঞ্জাম তুলে দেওয়াই উদ্দেশ্য, যা শিক্ষার ফলাফল উন্নত করতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, “এআই আমাদের এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যেখানে শেখার ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে, স্কুলছুট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পড়ুয়াদের শনাক্ত করা যাবে, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী হবে, শিক্ষকদের আরও উন্নত সরঞ্জাম দেওয়া যাবে এবং প্রতিটি শিশুকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা অর্জনে ক্ষমতায়িত করা যাবে।”
স্কুলশিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি ও শ্রেণিকক্ষের সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে অসম সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রস্তাবিত এআই রোডম্যাপ সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
উপস্থিতি, পড়ুয়া পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন, পড়ার দক্ষতা যাচাই এবং শিক্ষক সহায়তা—স্কুলশিক্ষার একাধিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়াদের শেখার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত তার সমাধানের জন্য আরও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।























