নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্র সরকার রবিবার ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (ভিবি-জি-র্যাম-জি) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যগুলিকে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার প্রথম কিস্তি ছাড় করেছে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এই অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেন।
বৈঠকে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, প্রকল্পের এই প্রথম কিস্তির উদ্দেশ্য হল রাজ্যগুলির কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নিশ্চিত করা, যাতে শ্রমিকদের মজুরি ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা যায়। তিনি রাজ্য সরকারগুলিকে তাদের নিজস্ব অংশের অর্থও সময়মতো ছাড় করার আহ্বান জানান, যাতে মজুরি প্রদানে কোনও বিলম্ব না হয়।
মন্ত্রী জানান, ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কোনও বিঘ্ন ছাড়াই ভিবি-জি-র্যাম-জি প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে সফলভাবে প্রকল্পটি চালু হয়েছে এবং মনরেগা থেকে নতুন প্রকল্পে রূপান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত সমস্যার খবর মেলেনি।
তিনি জানান, প্রথম সপ্তাহেই বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরু হয়েছে এবং লক্ষাধিক গ্রামীণ শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির জন্য তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল এবং রাজস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গকে বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে দ্রুত কাজ শুরু করার আহ্বান জানান এবং ঝাড়খণ্ডকে দ্রুত প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের অনুরোধ করেন। যেসব রাজ্যে এখনও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হিসাব বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে, সেগুলিও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।
চৌহান বলেন, কেন্দ্রের লক্ষ্য হল গ্রামীণ শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, সময়মতো মজুরি প্রদান এবং দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, মনরেগা সারা দেশে কার্যকর হতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছিল, কিন্তু ভিবি-জি-র্যাম-জি মাত্র একদিনেই দেশব্যাপী চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, রাজ্যগুলির সহযোগিতা এবং দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ভিবি-জি-র্যাম-জি প্রকল্পে দৈনিক মজুরি গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং এখন দেশের কোনও রাজ্যেই দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার নিচে থাকবে না। এর মাধ্যমে গ্রামীণ শ্রমিকদের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের কোনও অভাব হবে না। রাজ্যগুলির চাহিদার ভিত্তিতেই প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে। গ্রামসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দিয়ে চৌহান বলেন, ফেস অথেনটিকেশন, জিও-ট্যাগিং-সহ সমস্ত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে হবে। প্রকল্পে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির স্থান নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এছাড়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যগুলিকে সহায়তা করতে যুগ্মসচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের নেতৃত্বে এরিয়া অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই আধিকারিকরা রাজ্যগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ করবেন।



















