নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): স্বামী বিবেকানন্দের মহাসমাধি দিবস উপলক্ষে শনিবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং জাতীয় চেতনাকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তাঁর প্রখর মেধা ও অনুপ্রেরণাদায়ক চিন্তাধারা আজও দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর পথপ্রদর্শক।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “স্বামী বিবেকানন্দজির মহাসমাধি দিবসে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও জাতীয় চেতনাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর প্রখর মেধা ও অনুপ্রেরণাদায়ক ভাবনা আজও লক্ষ লক্ষ যুবকের পথ দেখাচ্ছে। উন্নত ভারত গড়ার সংকল্প পূরণে তাঁর আধ্যাত্মিক বার্তা দেশকে নতুন শক্তি ও দিশা জোগাবে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বেদান্ত, দর্শন এবং ভারতের জ্ঞান-ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি যুবসমাজের মধ্যে চরিত্র গঠন, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক নবজাগরণের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা ও সেবার আদর্শকে তিনি সুসংগঠিত রূপ দেন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারা ভবিষ্যতেও দেশগঠনে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দজির মহাসমাধি দিবসে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং সনাতন ভাবধারাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি দিয়েছেন। দেশপ্রেম, সমাজসেবা, নৈতিক বিকাশ এবং চরিত্র গঠনের বার্তা তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ক্ষমতায়িত, সংস্কৃতিমনস্ক ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিকই একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর চিন্তাধারা সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়তে আমাদের নিরন্তর অনুপ্রাণিত করে।”
১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতায় নরেন্দ্রনাথ দত্ত নামে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য এবং আধুনিক ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা। ভারতীয় দর্শন ও বেদান্তকে পাশ্চাত্য বিশ্বে পরিচিত করে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৮৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ, যার সূচনা ছিল “আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতৃগণ”, তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে বেদান্ত ও ভারতীয় দর্শনের ওপর বক্তৃতা দেন।
ভারতে ফিরে ১৮৯৮ সালে কলকাতার কাছে বেলুড়ে তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ আদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেদান্ত সোসাইটি গড়ে ওঠে এবং তাঁর শিষ্যরা ভারতীয় দর্শনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বামী বিবেকানন্দ বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃত ভাষায় বহু কবিতা ও স্তোত্র রচনা করেন, যার অনেকগুলি আজও বিশ্বের বিভিন্ন বেদান্ত কেন্দ্রে গাওয়া হয়। তিনি নারীশক্তির বিকাশ এবং পাশ্চাত্যের মানুষদের বেদান্ত অধ্যয়ন ও প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষেও দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেছিলেন।
১৯০২ সালের ৪ জুলাই, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে, বেলুড় মঠে ধ্যানরত অবস্থায় তিনি মহাসমাধি লাভ করেন।



















