আগরতলা, ৪ জুলাই : ত্রিপুরা সরকারের জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা অভিষেক চন্দ্র-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনও দায়িত্ব ছাড়াই বাধ্যতামূলক অপেক্ষমাণ অবস্থায় থাকা এই আধিকারিকের বিরুদ্ধে নাগপুরের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় অভিষেক চন্দ্র ছাড়াও সুদীপ পাল, কৃষ্ণ চক্রবর্তী এবং উৎপল চৌধুরীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, জালিয়াতি-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, তিনি নাগপুরের এসকে সেলস কর্পোরেশন-এর প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৪ সালের শুরুতে এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অভিষেক চন্দ্রের পরিচয় হয়। অভিযোগ, অভিষেক চন্দ্র নিজেকে ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন এবং মিড-ডে মিল-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কৃষ্ণ চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সংস্থাটি কথিত সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। অভিষেক চন্দ্রের নির্দেশে উচ্চশিক্ষা অধিকর্তার দপ্তরের নামে একাধিক ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সংস্থাটিকে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকার একটি ভুয়ো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেখিয়ে আরও অর্থ আদায় করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৫ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, একাধিকবার ত্রিপুরায় এসে তাঁরা এমন কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যাঁরা নিজেদের সরকারি আধিকারিক ও ব্যাংককর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন নথি আদান-প্রদান এবং আরটিজিএসের মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনাও দেখানো হয়, যাতে তাঁদের আস্থা অর্জন করা যায়। পরে তদন্ত করে তাঁরা জানতে পারেন, উচ্চশিক্ষা অধিকর্তার দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনও টেন্ডার বা কার্যাদেশ জারি করা হয়নি এবং দেখানো সমস্ত নথিই জাল।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত সাড়ে আট বছরে ত্রিপুরা দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে এবং সম্প্রতি এক আইএফএস আধিকারিকের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও মূলচক্রের হোতাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এই ঘটনাও সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত শুরু করেছে নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানার পুলিশ।
























