আগরতলা, ৩ জুলাই: কেন্দ্রের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের উদ্যোগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় ত্রিপুরা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের ১৮টি রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিশোর বর্মন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কর্মশালা দেশের গ্রামীণ স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন এবং ১৬তম অর্থ কমিশনের একাধিক সুপারিশকে স্বাগত জানান।
তিনি জানান, ১৫তম অর্থ কমিশনের অধীনে ত্রিপুরার জন্য বরাদ্দ সম্পূর্ণ আর্থিক অনুদান রাজ্য পেয়েছে, যা দেশের মাত্র কয়েকটি রাজ্যই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৬তম অর্থ কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ত্রিপুরার জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, পারফরম্যান্স গ্রান্ট চালু এবং টাইড ও আনটাইড তহবিলের ৫০:৫০ অনুপাত বজায় রাখার সুপারিশ রাজ্যের তৃণমূল স্তরের প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে কিশোর বর্মন জানান, গ্রামীণ প্রশাসনে ত্রিপুরা ধারাবাহিকভাবে জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন করে চলেছে। চলতি বছরে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কার-সহ মোট তিনটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে রাজ্য। এর আগে গত বছর ত্রিপুরা সাতটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিল।
তিনি বলেন, “১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পঞ্চায়েত আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।”
শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’-এর আদর্শকে সামনে রেখে ত্রিপুরা সরকার উন্নত গ্রাম, উন্নত ত্রিপুরা এবং উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।



















