আগরতলা, ২১ আগস্ট: আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী নির্যাতন, কর্মসংস্থান এবং পিআরটিসি-সহ একাধিক ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, গত বিধানসভা অধিবেশনের পরবর্তী চার মাসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিশেষ করে নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
পার্টটাইম, ডিডব্লিউ, কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী, সর্বশিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং পুলিশের এসপিও-সহ বিভিন্ন অংশের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উগ্রপন্থী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসপিওদেরও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে তাঁদের দাবির প্রতি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার বারবার নতুন নতুন ঘোষণা করছে। বিভিন্ন পদ পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর অগ্রগতি নেই। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আবেদন ফি নেওয়া হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে পিআরটিসি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিষয়টি অবশ্যই উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
অধিবেশনের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর বিধানসভা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজ্যের মানুষের এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন অধিবেশন চালানোর দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার পক্ষ তিন দিনের বেশি অধিবেশন চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যেই রাজ্যের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি বিধানসভায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, স্পিকারের কাছে প্রাইভেট মেম্বার রেজোলিউশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শর্ট ডিউরেশন ডিসকাশন এবং ডাবল-স্টার প্রশ্নের মাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলোচনায় আনার আবেদন করা হয়েছে।
স্পিকার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন বলেও জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের মানুষের ক্ষোভ, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের কথা বিধানসভায় যতটা সম্ভব তুলে ধরতে প্রতিটি সেকেন্ড ও প্রতিটি মিনিট কাজে লাগানো হবে।



















