News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • ২১৩টি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারে ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার অধিক ব্যয় হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী
Image

২১৩টি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারে ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার অধিক ব্যয় হয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২১ আগস্ট: একাগ্রতাই হচ্ছে সাফল্যের সোপান। যে যত বেশি পড়াশোনা করবে এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকবে সে তত বেশি জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হবে। বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করাই বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতার আবহে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মূল হাতিয়ার।

আজ পিএম-শ্রী এ.ডি. নগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির শিলান্যাস ও উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য অতিথিগণদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সহ নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতন, বড়দোয়ালি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়, হাঁপানিয়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় এবং চারিপাড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের কেন্দ্রীয়ভাবে ভূমিপূজনের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দূরবর্তী ২৪০টি বিদ্যালয়ের জন্য বিশ্লেষণ ভিত্তিক ইন্টারেকটিভ ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের ও আগরতলা পুরনিগম এলাকায় জমির ম্যাপ ডিজিটাল করার পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে নকশা কর্মসূচির সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সামনে নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের গুণগতমান ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আজ যে ৫টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে তার জন্য আরআইডিএফ স্কিমে প্রায় ২৯ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে ২১৩টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার করতে ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীরাই হলো আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাই বিদ্যালয়ে আসার পর তাদের সব রকম সুবিধা ও নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল, পানীয়জলের ব্যবস্থা, বসার বেঞ্চের ব্যবস্থা, মিড-ডে-মিল, শৌচাগার সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জোগাড় করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পর বিদ্যালয়গুলির সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আগামীদিনে বড়দোয়ালি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে একটি মডেল স্কুল হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরীক্ষা পে চর্চা কর্মসূচির আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার চাপে যাতে অবসাদে না ভোগে। অবসাদকে জয় করে নিজের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া দৃঢ় মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক। আর এই দৃঢ় মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসকে যে আয়ত্ব করতে পারবে সেই ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ যে শিক্ষাদান করেন তার প্রতি মনোযোগ থাকলে এবং নিজের প্রচেষ্টা থাকলে আলাদা টিউশনের প্রয়োজন হয় না। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের সন্তান সন্ততিদের বেশি নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না করে একজন ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। স্কুলে পড়াকালীন সময়েই তাদের খেলাধুলা, নাচগান, সামাজিক কর্মকান্ড, দেশাত্মবোধক নানা কার্যকলাপের মধ্যে তাদের যুক্ত করতে হবে। তবেই সুস্থ, সবল, মানসিকভাবে দৃঢ় ও সচেতন নাগরিক হিসাবে তারা গড়ে উঠবে। যা এক সমৃদ্ধ দেশ ও সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ রাজ্যে ২৪০টি বিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে। এরফলে দূরবর্তী এলাকার ছাত্রছাত্রীরা অংক, বিজ্ঞান ইংরেজি বিষয়ে শহরের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছ থেকে লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবে। শিক্ষক শিক্ষিকাগণ কেন্দ্রীয়ভাবে স্থাপিত একটি স্টুডিও থেকে এই ক্লাসগুলি নেবেন। এক্ষেত্রে ক্লাস হবে উভয়মুখী অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনে প্রশ্ন করতে পারবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দূরবর্তী এলাকার ছাত্রছাত্রীদের যাতে পড়াশুনা বন্ধ না হয় তার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আরও ২৪০টি বিদ্যালয়ে এই ধরনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপনের অনুমোদন এসে গেছে। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর কাছে বিদ্যালয় হলো মন্দির। আর একে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদেরও রয়েছে। তিনি রাজ্যে ১২৫টি বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয় এবং ৮৪টি পিএম-শ্রী বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী দিনেও এই সব বিদ্যালয় থেকে ভালো ফলাফল করা অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও তিনি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত আইসিটি, টিস্কারিং ল্যাব, নিপুণ ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু ও মুকুল কর্মসূচি, নবম শ্রেণিতে পাঠরত ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ছাত্রীদের বিনামূল্যে বাইসাইকেল প্রদান, টেলেন্ট সার্চ প্রোগ্রাম ও সুপার-৩০ প্রভৃতি কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নকশা কর্মসূচি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এরফলে মাইক্রো লেভেলে জমির পরিমাপ করা যাবে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি স্বপ্নের প্রকল্প। বর্তমানে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এটি চালু করা হচ্ছে। বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে জমির পরিমাপের জটিলতা দূর করা সম্ভব হবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মিনা রাণী সরকার, কর্পোরেটর অলক রায়, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ড. সমিত রায় চৌধুরী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Releated Posts

উদয়পুরে আর কে পুর ও মহিলা থানা পরিদর্শনে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও

উদয়পুর, ২১ আগস্ট: উদয়পুর মহকুমার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আর কে পুর থানা এবং মহিলা থানা পরিদর্শন করলেন…

ByByReshmi Debnath Aug 21, 2026

হেরোইন উদ্ধারের অভিযোগে কাঁকড়াবন পুলিশের অভিযান, আটক তিন যুবক

উদয়পুর, ২১ আগস্ট: গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইন উদ্ধারের দাবিতে তিন যুবককে আটক করেছে কাঁকড়াবন থানার পুলিশ।…

ByByReshmi Debnath Aug 21, 2026

বিধানসভা অধিবেশন ঘিরে সরব জিতেন্দ্র চৌধুরী, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের সমালোচনা

আগরতলা, ২১ আগস্ট: আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী নির্যাতন, কর্মসংস্থান এবং পিআরটিসি-সহ একাধিক…

ByByReshmi Debnath Aug 21, 2026

ত্রিপুরা বিজেপি-তে সাংগঠনিক রদবদল: ১০ জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হলো নতুন প্রভারীদের

আগরতলা, ২১ আগস্ট: রাজ্য বিজেপির গঠনে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটাল শাসক দল বিজেপি। রাজ্যের ১০টি সাংগঠনিক জেলায় নতুন…

ByByReshmi Debnath Aug 21, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top