News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • বিদ্যুৎ মাশুলের বাড়তি বোঝা গ্রাহকদের উপর চাপতে দেবে না সরকার, সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি বিজেপির
Image

বিদ্যুৎ মাশুলের বাড়তি বোঝা গ্রাহকদের উপর চাপতে দেবে না সরকার, সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি বিজেপির

আগরতলা, ২১ আগস্ট: বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলে দাবি করল ভারতীয় জনতা পার্টি। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ মাশুল, রেগুলেটরি কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের ভর্তুকি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে এই দাবি করেন বিধায়ক ভগবান দাস।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মাশুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বিদ্যুৎ মাশুল নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি কমিশন। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হলে সরকার সেই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানান তাঁরা।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অতীতে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ছিল। ২০১০ সালের সময়কালে বিদ্যুৎ মাশুল প্রায় ১৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের উপর বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
নেতাদের বক্তব্য, ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাশুল বৃদ্ধি করা হলেও রাজ্য সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের উপর সেই বাড়তি বোঝার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালের বিদ্যুৎ মাশুল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তাঁরা স্বীকার করেন।

বিশেষ করে স্থায়ী মাশুল ও অন্যান্য চার্জ নিয়ে বহু পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী এবং কৃষক সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান বিজেপি নেতারা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের এই সমস্যার কথা বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার বাড়তি বোঝা নিজেদের দায়িত্বে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকদের উপর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিজেপির বক্তব্য, বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সরকার তা উপলব্ধি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলেও দাবি করা হয়।
বক্তারা বলেন, একটি সরকার শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য নয়, মানুষের পাশে থাকার জন্য কাজ করে। বর্তমান রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যা ও আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করেই বিদ্যুৎ মাশুলের বাড়তি বোঝা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

আগামী দিনেও বিদ্যুৎ মাশুল ও ভর্তুকি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সরকার নজরে রাখবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতৃত্ব।

Releated Posts

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে পাহাড়ে মথার দাপট, বিপুল জয় এনডিএ – র

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল তিপ্রা মথা। ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার ভিলেজ…

ByByReshmi Debnath Oct 5, 2026

আগরতলায় পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: আগরতলার হেরিটেজ পার্কে অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল ত্রিপুরা পুলিশ। পুলিশের সূত্রের দাবি,…

ByByReshmi Debnath Oct 5, 2026

ভোট গণনায় প্রশাসনের আঘাতে মথা কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ, পদপৃষ্টে মৃত্যুর দাবি মুখ্যমন্ত্রীর 

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খোয়াই মহকুমার তুলাশিখর আরডি…

ByByReshmi Debnath Oct 5, 2026

জিবি হাসপাতালে রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: আগরতলার জিবি হাসপাতালে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া…

ByByReshmi Debnath Oct 5, 2026
Scroll to Top