নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুলাই: নরসিংগড় ল’ কলেজের বয়েজ হোস্টেলের নির্মাণস্থল থেকে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃত শ্রমিক অসমের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, নরসিংগড় ল’ কলেজ ও নরসিংগড় মানসিক হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সরকারি নির্মাণকাজ চলছে। এই ঘটনার পর নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সেফটি হেলমেট, সেফটি বুট, সেফটি বেল্ট, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো মৌলিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি বহুতল নির্মাণকাজে নিরাপত্তা জালসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, বহিরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং স্থানীয় থানায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে অসম পুলিশের একটি দল একটি খুনের মামলার তদন্তে এই নির্মাণস্থল থেকে কয়েকজন শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপের কারণে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়, যা শ্রমিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই অভিযোগও এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা হয়ে থাকলে তার পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা কর্মক্ষেত্র-সংক্রান্ত কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নির্মাণ সংস্থার কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্মাণস্থলগুলিতে শ্রম আইন ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।



















