নতুন দিল্লি, ৩ জুলাই (আইএএনএস): রাম মন্দিরে অনুদান ও ভোগের অর্থে কথিত আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর “দেরিতে প্রতিক্রিয়া” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠী। তাঁদের অভিযোগ, যখন মন্দিরে অনিয়ম চলছিল, তখন আরএসএস কেন নীরব ছিল, এই প্রশ্নই এখন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
এই মন্তব্যগুলি এসেছে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে-র বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি হিন্দু সমাজকে সতর্ক থাকতে এবং “দেশবিরোধী শক্তির প্রভাবে বিভ্রান্ত না হতে” আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলেন, আরএসএস এখন বুঝতে পেরেছে যে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে, কিন্তু যাঁরা রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছেন, তাঁদের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। এতদিন পরে এই বিবৃতি আসছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে এসআইটি তদন্ত চালাচ্ছে এবং কিছু ছোট কর্মী গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু মূল অভিযুক্তদের এখনও রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনমানস, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ। এতে তাঁদের বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কারও অবস্থান বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, সকল দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন ধরে অনিয়ম চললেও প্রশাসন কেন কিছু টের পায়নি। তাঁর বক্তব্য, সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এতদিন চুরি চলল? এখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সবাই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে আরএসএস কী করছিল? আজ বিজেপি ও আরএসএস উন্মোচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মগুরু সত্যেন্দ্র দাস বেদান্তি আরএসএসের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে “ন্যায্য দাবি” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে আরএসএস ও সাধুসমাজ দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিল, তাই এমন অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা রাম মন্দিরের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত।























