ভোপাল, ৩ জুলাই (আইএএনএস): কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং ঘোষণা করেছেন যে, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা জেলা আদালতে মামলা দায়ের করবেন। তাঁর দাবি, ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা জানার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে।
শুক্রবার ভোপালের মাতা মন্দির এলাকায় মধ্যপ্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সদবুদ্ধি যজ্ঞ’ ও গণঅনশনে অংশ নিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন। রাম মন্দিরের অনুদান তহবিলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মন্ত্রী পি.সি. শর্মা, মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রীনা বরাসি সেতিয়া এবং দলের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিগ্বিজয় সিং জানান, তিনি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন এবং সেই অনুদানের রসিদ ও চেকের কপি এখনও তাঁর কাছে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলাম। আগামী ৫ বা ৬ জুলাই আমার সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার পর অযোধ্যায় গিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করব।
তিনি আরও বলেন, কোটি কোটি ভক্ত ভগবান রামের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে অনুদান দিয়েছেন। যদি সেই অর্থের অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দিগ্বিজয় সিং জানান, আদালত যদি অনুদানের অর্থ ব্যবহারে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে তিনি নিজের অনুদানের অর্থ ফেরত চাইবেন এবং তা অন্য কোনও স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা কোনও শঙ্করাচার্যের ট্রাস্টে দান করবেন।
নিজের বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধী হওয়ার অভিযোগও খারিজ করে দেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি সবসময় সনাতন ধর্মের অনুশারী, নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালন করেন এবং নর্মদা পরিক্রমাও সম্পন্ন করেছেন।
এছাড়া তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং রাম মন্দির ট্রাস্টের গঠন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
দিগ্বিজয় সিং বলেন, ধর্মীয় অনুদানের অর্থ ব্যবহারে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত। ভক্তদের জানার অধিকার রয়েছে তাঁদের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে। এই ধরনের তহবিল পরিচালনাকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, তাঁর বাড়ির বাইরে একটি ফলক টাঙানো হবে, যেখানে লেখা থাকবে ‘অনুদান চোরদের আমার বাড়িতে প্রবেশ নিষিদ্ধ’। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় অনুদানের অর্থ ব্যবহারে অধিক স্বচ্ছতার দাবি জানান।



















