নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “শহিদ নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তারও আগে গেট খোলা হতে পারে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ফার্স নিউজ আরও জানায়, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শোকমিছিলের সুবিধার্থে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণা দেন বাগদাদের গভর্নর আতওয়ান আল-আতওয়ানি।
ভারতের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন।
ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানায়, ভারতীয় প্রতিনিধিরা ইরানের প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। দূতাবাস প্রকাশিত ছবিতে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)-র প্রধান মেহবুবা মুফতি, কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ-সহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
রাশিয়ার পক্ষ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছায়। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন বলে দেশটির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের প্রধান আয়াতোল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি।
এছাড়া তুর্কমেনিস্তান, আর্মেনিয়া, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল-সহ একাধিক দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।
ইরাক, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, বেলারুশ ও কিরগিজস্তানের সংসদের স্পিকার, নিকারাগুয়া, কঙ্গো ও বুরকিনা ফাসোর বিদেশমন্ত্রী, মিশরের সিনেটের সভাপতি, প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের মহাসচিব এবং ওমানের পার্লামেন্টের স্পিকার-সহ বহু আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মহাসচিব নুরলান ইয়েরমেকবায়েভ, ডি-৮ অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তুরস্কের উপরাষ্ট্রপতি জেভদেত ইলমাজ, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খারেইজি এবং রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ-সহ আরও বহু প্রতিনিধি যোগ দেন।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অন্তত আটজন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার অংশ নেন। এছাড়া বহু দেশ বিদেশমন্ত্রী, মন্ত্রী বা বিশেষ দূতের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করেছে। প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
প্রেস টিভির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইরানে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ইরানি প্রশাসনের অনুমান, বহুদিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ২ কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
আগামী দিনে কুম, বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফেও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে।



















