ইসলামাবাদ, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি তাদের নিয়োগ কৌশলে বড় পরিবর্তন এনে এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) এবং ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)-এর মতো সংগঠনগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের চিহ্নিত, মতাদর্শে প্রভাবিত এবং সংগঠনে যুক্ত করছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পিজে মিডিয়া-র প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলি মূলত মাদ্রাসা, স্থানীয় ধর্মীয় নেটওয়ার্ক, মুদ্রিত প্রচারপত্র এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করত। বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকা, দক্ষিণ পাঞ্জাব, করাচি ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে পারিবারিক সম্পর্ক, ধর্মীয় প্রভাব এবং ভয় দেখিয়ে যুবকদের জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করা হতো।
প্রতিবেদনে তুরস্ক-জন্ম সাংবাদিক উজাই বুলুত উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং ডিজিটাল মাধ্যম জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম অথরিটি (এনএসিটিএ)-র গবেষণা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার প্রবেশদ্বার অনেক সহজ হয়ে গেছে। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন এখন এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম ব্যবহার করে প্রচার, অর্থ সংগ্রহ, সদস্য নিয়োগ এবং অনলাইন প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।
২০২৫ সালের একটি এনএসিটিএ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে এখন আর জঙ্গি নিয়োগের জন্য সরাসরি সাক্ষাতের প্রয়োজন হয় না। অনলাইনে ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট ধরনের প্রচার ও মতাদর্শগত কনটেন্ট দেখিয়ে সম্ভাব্য সদস্যদের প্রভাবিত ও সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের মতো শুধু অস্ত্রধারী যোদ্ধা নয়, এখন জঙ্গি সংগঠনগুলি ডিজিটাল প্রচার, অনলাইন অর্থ লেনদেন, লজিস্টিকস এবং গোপন অপারেশনে দক্ষ ব্যক্তিদেরও নিয়োগ করছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট গোপন সেল এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষে এই নেটওয়ার্ক ভেদ করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান এখনও আল-কায়েদা, লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ-সহ একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দৈনিক এশিয়ান লাইট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এ পাকিস্তানকে বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস-এর ২৫ মার্চ, ২০২৬-এর প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে বহু জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে উল্লিখিত অধিকাংশ সংগঠনই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত। ফলে জঙ্গি নেটওয়ার্ক, মতাদর্শ এবং পরিচালন কাঠামোর মিলিত উপস্থিতির কারণে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।
এছাড়া চলতি বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ২১ বছর বয়সি মহম্মদ শাহজেব খান নিউ ইয়র্কে একটি ইহুদি কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আইএস-প্রভাবিত হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



















