প্যারিস, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশে এক সাংবাদিকের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স। অভিযোগ, ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ে এক মহিলাকে পুলিশ আধিকারিকদের মারধরের ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করার পর সাংবাদিক বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জেএমবিএফ জানিয়েছে, চলতি মাসের গোড়ার দিকে ঘটনাটি ঘটে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টেলিভিশনের সাংবাদিক বুলবুল হোসেন ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মীদের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন।
জেএমবিএফ-এর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নথিভুক্ত করার কারণে কোনও সাংবাদিকের ওপর হামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। একই সঙ্গে যে মহিলাকে পুলিশ আধিকারিকরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ, সেই ঘটনাটিও স্বাধীনভাবে তদন্ত করা উচিত বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
সংগঠনটির মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ থেকে সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-কে বুলবুল জানান, শিবির ও বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষের সময় বিজয় সরণি মোড়ের কাছে একটি পুলিশ ভ্যানের সামনে এক মহিলা গেলে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক তাঁকে মারধর করেন বলে তিনি দেখতে পান।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি ওই ঘটনার ভিডিও করতে শুরু করেন। অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলেন। তিনি তা করতে অস্বীকার করলে তাঁকে জোর করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বুলবুল।
ঘটনার পর বুলবুল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বুলবুল জানান, পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর মাথায় বারবার আঘাত করেন, তাঁকে ভ্যানের মেঝেতে ফেলে মারধর করেন। এমনকি এক পুলিশকর্মী তাঁর বুকের ওপর বুট রেখে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে বুলবুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর মাথা, চোখ এবং বুকে আঘাতের চিহ্ন পান বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেএমবিএফ বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বুলবুলের অভিযোগ দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে দোষী প্রমাণিত পুলিশ আধিকারিকদের আইনি বিধান অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।



















