কাবুল, ১৮ আগস্ট (আইএএনএস): আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বেসরকারি স্কুলের বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাদরান জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় পড়ুয়ারা স্কুল থেকে বের হচ্ছিল। আহতদের অধিকাংশই ছাত্রী বলে জানা গেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রায় ৩০ জন আহতকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
আফগানিস্তানে অতীতের যুদ্ধ ও সংঘাতের সময় পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক এবং মাইন এখনও সাধারণ মানুষের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিশুরাই প্রায়শই খেলনার মতো দেখতে বিস্ফোরককে খেলনা ভেবে তুলে নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এর আগে জুন মাসে দক্ষিণ আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে যুদ্ধের সময় পড়ে থাকা দুটি অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক বিস্ফোরণে এক শিশু নিহত এবং ছয়জন আহত হয়। প্রাদেশিক তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পরিচালক মোল্লা আবদুল বারি রশিদ জানিয়েছিলেন, সাঙ্গিন জেলায় প্রথম ঘটনায় তিন শিশু খেলনার মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে খেলতে শুরু করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক শিশু নিহত এবং দু’জন আহত হয়। একই দিনে কয়েক ঘণ্টা পর ওই জেলারই আরেকটি বিস্ফোরণে আরও চার শিশু আহত হয়।
এছাড়া গত ২ জুন পূর্ব আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশের জিলান জেলায় যুদ্ধের সময় পড়ে থাকা একটি অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক নিয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতর আহত হয় এক কিশোর। প্রাদেশিক পুলিশের তরফে জানানো হয়, খেলনার মতো দেখতে বস্তুটি বিস্ফোরিত হওয়ার পর ওই কিশোর গুরুতর জখম হয়।
গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও গৃহসংঘাতের অবশিষ্ট মাইন এবং অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের কারণে আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম মাইন-দূষিত দেশ হিসেবে পরিচিত। এসব বিস্ফোরকের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিরীহ শিশুরা।



















