নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। দেশের খাদ্য মজুত বাড়ানো এবং বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অতীতে একাধিকবার খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পাকিস্তান থেকে রফতানি হওয়া চালের চালান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে লিসবন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ইইউ-র নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা (এমআরএল)-এর বেশি পাওয়ায় ওই চালানগুলি বাতিল করা হয়েছিল।
ইইউ-তে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। আমদানি হওয়া প্রতিটি খাদ্যপণ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। নির্ধারিত সীমার বেশি কীটনাশক পাওয়া গেলে সেই চালান ফিরিয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি চালে অ্যাফ্লাটক্সিন দূষণও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সংরক্ষণ, পরিবহণ বা প্রক্রিয়াকরণের সময় ছত্রাকের কারণে এই বিষাক্ত উপাদান তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যাফ্লাটক্সিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতি এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই ইইউ এই বিষয়ে কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করে।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে ব্যর্থতা, ভুল লেবেলিং এবং স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধি না মানার কারণেও পাকিস্তানের কিছু চালের চালান প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুধু কম দামই বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। প্রতিটি চালান বাজারে ছাড়ার আগে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, অ্যাফ্লাটক্সিন, ভারী ধাতু এবং অন্যান্য দূষক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠা সরবরাহ শৃঙ্খল বা চালান থেকে খাদ্য আমদানি হলে স্বাধীনভাবে মান যাচাই করা আরও বেশি প্রয়োজন।



















