গুয়াহাটি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): অসমে প্রগতিশীল ও শিক্ষিত কৃষকদের উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। চলতি বছর ‘চিফ মিনিস্টার্স এগ্রিকালচার এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’-এর আওতায় ১,০০০ জন প্রগতিশীল ও শিক্ষিত কৃষককে ১ লক্ষ টাকা করে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত যুবকদের কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, চলতি বছর ১,০০০ জন প্রগতিশীল ও শিক্ষিত কৃষককে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপকদের কৃষি ও চাষাবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, আগামী পাঁচ বছরে এই উদ্যোগের আওতায় মোট ১০,০০০ কৃষককে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রসার, কৃষি গবেষণাকে শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের আরও আত্মনির্ভর করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এদিকে, যুবকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিকে একটি অভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে পৃথক ‘ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত এই দফতরের আওতায় ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস, ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যুবকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে আনা হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এই দফতর চালু হতে পারে বলে জানান তিনি।
সরকারি চাকরিতে কর্মরত স্বামী আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র বিয়ে করলে সংশ্লিষ্ট মহিলাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থায় কোনও মহিলা সরকারের কাছে আবেদন করে তাঁর স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন এবং আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলে প্রমাণ করতে পারলে, ওই সরকারি কর্মীর বেতনের ২০ শতাংশ কেটে প্রথম স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বহুবিবাহে জড়িত সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি এর আগে নেওয়া একটি সরকারি উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন, যেখানে বাবা-মাকে পরিত্যাগ করা সরকারি কর্মীদের বেতনের ১০ শতাংশ তাঁদের বাবা-মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই উদ্যোগ সফল হয়েছিল।
এদিকে, সরকারি দফতরগুলিতে জমে থাকা পুরনো ফাইল চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২ অক্টোবর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘প্রজেক্ট সদ্ভাবনা ২’ চালু করবে অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দফতর, ডিরেক্টরেট এবং ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ে তিন লক্ষেরও বেশি ফাইল বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ফাইলগুলির বিষয়ে নাগরিকদের অভিযোগ বা তথ্য জানানোর জন্য একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হবে। সেখানে পাওয়া অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে এই ধরনের উদ্যোগ ম্যানুয়ালি পরিচালিত হলেও এবার ই-ফাইল ব্যবস্থার মাধ্যমে বকেয়া ফাইলগুলি আরও কার্যকরভাবে ট্র্যাক ও বিশ্লেষণ করা হবে।
























