নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের ব্যাংকিং খাতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে আরও কার্যকরভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা পর্যালোচনা করতে শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সোমবার নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত দু’দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খুব শীঘ্রই ওই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। কমিটি তার সুপারিশ জমা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে এগোবে। তিনি বলেন, “কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর আমরা সুপারিশগুলির ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করব।”
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময়ই সীতারামন ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য করা যায়, তা পর্যালোচনা করাই এই কমিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সীতারামন বলেন, ২০৪৭ সালে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “২০৪৭ আর খুব বেশি দূরে নয়। আমরা এখন ২০২৬ সালে রয়েছি, অর্থাৎ হাতে ২০ বছরেরও কম সময় রয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পদের গুণমান বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। অনুৎপাদক সম্পদ বা এনপিএ সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে থাকায় ব্যাংকিং খাত এখন সংস্কারের জন্য শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিকে তাদের শক্তিশালী ব্যালান্সশিটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতির পরবর্তী পর্যায়ের প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতের ব্যাংকিং সংস্কারের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথাও বলেন।
সীতারামন বলেন, এনপিএ সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো অবস্থান আর হতে পারে না। ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন ধারণা ও প্রস্তাব নতুন কমিটির কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি জানান।
দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাংকিং পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার ওপরও জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। তাই তরুণদের জন্য শিক্ষা ঋণ, উদ্যোগপতি হওয়ার জন্য অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
ব্যাংকিং খাতকে নতুন ধরনের অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়ে সীতারামন বলেন, নতুন ব্যাংকিং কমিটি সুপারিশ দেওয়ার পর দেশের অর্থনীতিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাংকগুলিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এদিকে, অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিব সঞ্জয় লোহিয়া জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির সম্পদের গুণমানে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির মোট এনপিএ যেখানে ১৪.৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, ২০২৬ সালের মার্চে তা কমে ১.৯৩ শতাংশের রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। একই সময়ে নিট এনপিএ ৮ শতাংশ থেকে কমে ২.৩৯ শতাংশ হয়েছে।
এই উন্নতির ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির ব্যালান্সশিট আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান লোহিয়া।
তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলিকে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রযুক্তি ব্যবসায়িক মডেল বদলে দিচ্ছে এবং গ্রাহকদের প্রত্যাশাও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একইসঙ্গে অর্থনীতিতে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
পরিবারগুলির সঞ্চয়ের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে আমানত সংগ্রহকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন লোহিয়া। উন্নত পরিষেবা, সুবিধা, নতুন ধরনের আর্থিক পণ্য এবং গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যাংকগুলিকে আমানতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি।
গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার, কৃষি ও উদ্যানপালনভিত্তিক ভ্যালু চেইন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলির সামনে বড় সুযোগ রয়েছে বলে জানান আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিব।
—আইএএনএস



















