অমরাবতী, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবিতে অন্ধ্রপ্রদেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সোমবার থেকে রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও শিক্ষামূলক হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবাও সম্পূর্ণ বয়কট শুরু করেছেন তাঁরা। এর ফলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্টাইপেন্ড সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে অন্ধ্রপ্রদেশ জুনিয়র ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের ডাকে সোমবার জরুরি পরিষেবা বয়কট শুরু করেন চিকিৎসকরা। রাজ্যের ১৯টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরাই এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
প্রায় ৯,০০০ রেসিডেন্ট ডাক্তার, মেডিক্যাল ইন্টার্ন, জুনিয়র রেসিডেন্ট, সুপার-স্পেশালিটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট, সিনিয়র রেসিডেন্ট এবং জেলা রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম-এর আওতায় কর্মরত চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এর ফলে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ড এবং প্রসূতি বিভাগেও পরিষেবা প্রভাবিত হয়েছে।
গত ১১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলন শুরু করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ-জরুরি পরিষেবা থেকে বিরত ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির বিষয়ে লিখিত আশ্বাস না পাওয়ায় সোমবার আন্দোলন আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয় এপিজুডা।
এর ফলে রাজ্যের সরকারি শিক্ষামূলক হাসপাতাল, সুপার-স্পেশালিটি ইউনিট এবং পেরিফেরাল মেডিক্যাল কলেজগুলিতে অ-জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে রোগীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতর জেলা শাসক, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং হাসপাতালের সুপারদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, প্রসূতি পরিষেবা, অপারেশন থিয়েটার, এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, ডায়ালিসিস ইউনিট এবং ট্রমা পরিষেবা যাতে সচল থাকে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ওষুধ, অক্সিজেন, রক্ত এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এপিজুডা-র দাবি, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির বিষয়টি বকেয়া রয়েছে। ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবার কল্যাণ দফতরের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, জুনিয়র চিকিৎসকদের স্টাইপেন্ড প্রতি দুই বছর অন্তর প্রায় ১৫ শতাংশ করে সংশোধন করার কথা।
সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার স্পষ্ট কোনও আশ্বাস দেয়নি। ফলে ধাপে ধাপে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
এপিজুডা ১৫ শতাংশ স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার পোস্টগ্র্যাজুয়েট জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য ৩ শতাংশ এবং হাউস সার্জন ও ইন্টার্নদের জন্য ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
স্টাইপেন্ড ছাড়াও আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে জুনিয়র চিকিৎসকদের। ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি পদে এমএসসি এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়ম কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে এপিজুডা। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের অবসরের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করছে সংগঠনটি।
সরকারের দাবি, আলোচনার সময় এপিজুডা-কে জানানো হয়েছে যে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অর্থ দফতর ১৫ শতাংশ স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির পক্ষে নয়। তবে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে স্টাইপেন্ড বাড়ানোর একটি প্রস্তাব রয়েছে। এই বার্ষিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বজায় থাকবে বলেও সরকার আশ্বাস দিয়েছে।
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রস্তাবিত বৃদ্ধি গ্রহণ করার জন্য জুনিয়র চিকিৎসকদের কাছে আবেদন জানিয়েছে সরকার।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে ৯,৫০১ জন জুনিয়র চিকিৎসকের স্টাইপেন্ড বাবদ বছরে প্রায় ৫৮৬.০৮ কোটি টাকা খরচ হয়। এপিজুডা-র দাবি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক খরচ হবে প্রায় ৮৭.৯১ কোটি টাকা।
স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবিতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক রাখা যায়, এখন সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
______
























