নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে এবং চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কাছে যৌথভাবে চিঠি দিয়েছেন ২৩ জন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোট ও অন্যান্য বিরোধী দলের একাধিক নেতা।
বিরোধী নেতারা চিঠিতে দাবি করেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি অর্থাৎ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফলাফল জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের শুরু করা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-কে “স্বভাবগতভাবে বর্জনমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে দরিদ্র, অশিক্ষিত, দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু প্রকৃত ভোটার জটিল নথিপত্রের অভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত ২৮ জুন লেখা ওই চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ নামে একটি শ্রেণির আওতায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল।
বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন, এই বিষয়ে গঠিত বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণেও প্রশাসনিক ত্রুটির প্রমাণ মিলেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন ১৯টি ট্রাইব্যুনালের একটিতে ১,৭৭৭টি নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে শুনানি হয় এবং তার মধ্যে ১,৭১৭টি নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভোটারদের নাম ভুলভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
চিঠিতে শুধু ভোটার তালিকা নয়, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনবিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে কাগজের ব্যালট ব্যবস্থায় ফেরার বিষয়েও সর্বজনীন আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
এছাড়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চিঠির শেষাংশে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আবেদন জানিয়ে বিরোধী নেতারা বলেন, যখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিই সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয় এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তখন দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ গভীর সংকটের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের রক্ষাকর্তা হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তাঁরা দাবি করেছেন।



















