নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নবনিযুক্ত জাতীয় পদাধিকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সোমবার বলেন, নতুন টিমের হাত ধরে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের নির্মাণে দলের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় সভাপতি হিসেবে নীতিন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। দলের বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বাধীন নতুন টিমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে নীতিন নবীন লেখেন, বিজেপির জাতীয় টিমে সদ্য নিযুক্ত সমস্ত পদাধিকারীকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই নতুন টিম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনায় সংগঠনকে আরও গতি দেবে।
বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ ‘কার্যকর্তা’র মানসিকতা নিয়ে দলের প্রত্যেক সদস্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্প এবং দেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
আগামী দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিজেপি। সেই প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে রাজ্যস্তরে আরও মজবুত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্প্রসারণ করাই এই রদবদলের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নীতিন নবীনের নেতৃত্বাধীন নতুন টিমের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচন। এর মধ্যে আগামী বছরের গোড়ার দিকে হতে চলা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
এর পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনও নতুন সাংগঠনিক টিমের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। ওই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার চতুর্থবারের জন্য জনাদেশ চাইবে। ফলে আগামী কয়েক বছর দলের সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশল পরিচালনায় নতুন টিমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বে অমিত মালব্যের পরিবর্তে দীপক মহাশকে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম)-এর নতুন সভাপতি করা হয়েছে হেমাং যোশীকে।
কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। তাঁকে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকেও জাতীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের সাফল্যের পর তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















