কলকাতা, ৭ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে এক বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। গত রবিবার যে পুকুরটি থেকে ওই নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত খড়ের চাল দেওয়া কুঁড়েঘরকে সম্ভাব্য ‘ঘটনাস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা।
বারুইপুর জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা গেছে, ধৃত অভিযুক্তদের দফায় দফায় জেরা করে যে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই কুঁড়েঘরটির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুমান, ওই পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরেই নাবালিকার ওপর এই নৃশংস অত্যাচার চালানো হয় এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাকে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং নির্মমভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করেছিল অপরাধীরা। মাথায় এবং গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ওই নাবালিকাকে প্রথমে একটি বস্তার ভেতরে পোরা হয় এবং সে যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য একটি ধাতব তার দিয়ে বস্তার মুখটি শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন নাবালিকাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল, তখনো তার শরীরে প্রাণ ছিল। মূলত তার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই এবং অপরাধের সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলতেই তাকে জ্যান্ত অবস্থায় জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের ধারণা, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাতের ফলে নাবালিকাটি সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। অচেতন অবস্থাতেই তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ইঙ্গিত— গুরুতর জখম এবং জলে ডুবে যাওয়া, এই দুইয়ের সম্মিলিত জেরেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিশুর।
তদন্তকারীদের দাবি, কুঁড়েঘর থেকে দেহটি বের করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর, তিন অভিযুক্ত সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা রাস্তা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
তবে চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ বারুইপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। ওই রিপোর্টগুলি হাতে এলেই ধর্ষণ, খুন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আইনিভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
_______



















