নয়াদিল্লি, ৬ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলি (এফটিএ) উৎপাদন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং দেশের যুবসমাজের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার দরজা খুলে দিচ্ছে বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট উদয়পুর-এর দ্বিভাষিক অনলাইন ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলির ফলে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ছাত্রছাত্রীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, “বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্বের দরজা এখন উন্মুক্ত।” তাঁর মতে, নতুন এফটিএগুলি একদিকে যেমন উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করছে, তেমনই উদ্ভাবনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পীযূষ গোয়েল ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করলে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে নিজেদের আরও ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১০০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকায় জাতীয় শিক্ষা নীতি-র লক্ষ্য অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আইআইএম উদয়পুরের অনলাইন দ্বিভাষিক বিবিএ কোর্সটি একটি অনন্য উদ্যোগ, যা গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমাতে সহায়তা করবে। অবস্থান বা আর্থিক সামর্থ্য নির্বিশেষে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তাঁর মতে, হিন্দি ও ইংরেজি—দুই ভাষায় এই কোর্স চালু হওয়ায় বিভিন্ন পটভূমির শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের ভাষায় আইআইএম-মানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
পীযূষ গোয়েল বলেন, “এখন আইআইএম-এর শ্রেণিকক্ষের পাঠ মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় দেখা যাবে।” তিনি জানান, ভিলওয়ারার ছোট দোকান থেকে শুরু করে বস্তারের মতো প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে এই কোর্সে অংশ নিতে পারবেন। ক্লাস অনলাইনে হলেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা অফলাইনে নেওয়া হবে।
এছাড়া, এই হাইব্রিড শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সরাসরি সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়েরও প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



















