ওয়াশিংটন, ৫ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিজমের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে বলেন, আমেরিকা “কখনও” কমিউনিস্ট দেশ হবে না। তিনি কমিউনিজমকে এমন একটি মতাদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেন, যার বিরুদ্ধে আগের প্রজন্ম লড়াই করেছে এবং যা আর কখনও ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার ইতিহাস স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার ইতিহাস, যা কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।
ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, “কমিউনিস্টদের কোনও সুযোগ নেই, একেবারেই নেই। আমরা আমাদের দেশে কমিউনিস্ট চাই না, কখনও না। এই মতাদর্শ কখনও সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।”
পরে স্নায়ুযুদ্ধ ও কোরিয়ার যুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রাক্তন সেনাদের সম্মান জানাতে গিয়েও একই বার্তা পুনরাবৃত্তি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমেরিকা কখনও কমিউনিস্ট দেশ হবে না। কমিউনিজম একটি পরাজিত মতাদর্শ এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।”
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাই সেই মতাদর্শকে দেশের ভিতরে আবার মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “আমাদের যোদ্ধারা সারা বিশ্বের যুদ্ধক্ষেত্রে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, শুধু এই জন্য নয় যে সেই বিপদ আবার আমেরিকার মাটিতে ফিরে আসবে। আমরা তা হতে দেব না। এমন হুমকিকে শুরু হওয়ার আগেই থামিয়ে দিতে হবে। এটা ক্যানসারের মতো, যত দ্রুত সম্ভব কেটে ফেলতে হয়।”
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা স্বাধীনতা, বাক্স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অস্ত্র রাখার অধিকারের ভিত্তিতে একটি প্রজাতন্ত্র গড়ে তুলেছিলেন, যা কমিউনিস্ট শাসনের সঙ্গে কখনও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না।
মার্কিন সংবিধানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা শুধু স্বাধীনতা অর্জন করেননি, বিশ্বের সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক দলিলের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতাকে সুরক্ষিতও করেছেন।”
ভাষণে তিনি কোরিয়ার যুদ্ধের প্রবীণ সেনা মেরিন কর্পোরাল প্যাট ফিন, প্রাইভেট ফার্স্ট ক্লাস রুডি মিকিন্স এবং প্রবীণ সেনা সনি রে-সহ একাধিক যুদ্ধবীরকে সম্মান জানান।
এছাড়া বার্লিন প্রাচীরের ‘চেকপয়েন্ট চার্লি’-তে ওড়ানো শেষ মার্কিন পতাকাগুলির একটি প্রদর্শন করে ট্রাম্প বলেন, এটি পূর্ব ইউরোপে কমিউনিস্ট শাসনের অবসানের প্রতীক।
তিনি বলেন, “স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস একসময় হাতুড়ি-হাঁসুয়ার প্রতীককে ইতিহাসের অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। প্রয়োজন হলে আবারও তা করবে। যদিও আমার বিশ্বাস, এবার তার প্রয়োজন হবে না, কারণ মানুষ শিক্ষা পেয়েছে।”
ভাষণের পুরোটা জুড়েই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসকে দেশের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে “স্বাধীনতার দেশ” এবং “মুক্তির ভূমি” বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আইএএনএস
























