ওয়াশিংটন, ৪ জুলাই (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণের মুখে। তাঁর অভিযোগ, দেশের ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা বা পুনর্লিখনের চেষ্টা এমন মূল্যবোধকে দুর্বল করছে, যার উপর গত ২৫০ বছর ধরে আমেরিকা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে খাটো করা এবং জাতীয় পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকার অসাধারণ চরিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং ‘আমেরিকান হওয়ার অর্থ কী’—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।”
ট্রাম্পের মতে, শুধুমাত্র সংবিধান নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপরই আমেরিকার স্বাধীনতা টিকে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমেরিকার সংস্কৃতি ছাড়া আমেরিকার স্বাধীনতা সম্ভব নয়। আর আমেরিকার জনগণ ছাড়া এই দেশের প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়। সংবিধান ততটাই শক্তিশালী, যতটা শক্তিশালী সেটিকে রক্ষা করা জনগণ ও তাদের সংস্কৃতি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকার জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস। তাঁর দাবি, দেশের প্রতিষ্ঠাতারা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে নাগরিকরা নিজেরাই নিজেদের শাসন করেন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা কখনও রাজা বা সরকারের সামনে মাথা নত করেনি, তারা কেবল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছেই নতজানু হয়েছে।”
ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা স্বাধীনতাকে ভালোবাসে, স্বনির্ভরতাকে মূল্য দেয় এবং নিজেদের মত প্রকাশ, পছন্দমতো জীবনযাপন, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অস্ত্র বহনের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
ভাষণে ইংরেজি ভাষাকেও আমেরিকার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের কথায়, “আমেরিকায় আমরা ইংরেজিতে কথা বলি, কারণ এটাই আমাদের প্রতিষ্ঠার ভাষা।”
দেশের ইতিহাসকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার প্রবণতারও সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ শিশুদের শেখাচ্ছে যে আমেরিকা দখল করা জমির উপর গড়ে উঠেছে এবং দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরা নিপীড়ক ছিলেন।
তিনি বলেন, “এরা শুধু আমাদের অতীতকেই অপমান করছে না, আমাদের ভবিষ্যতের ওপরও আঘাত হানছে।”
ট্রাম্পের দাবি, এই ধরনের প্রচেষ্টা আমেরিকার ভিত্তিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তারা সেই মহান আমেরিকান চরিত্রকে ধ্বংস করতে চায়, যারা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল, ডেলাওয়্যার নদী পার হয়েছিল, পশ্চিমাঞ্চলে বসতি গড়েছিল এবং আকাশ জয় করেছিল।”
ভাষণের শেষাংশে ট্রাম্প বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জাতিকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস, জাতীয় পরিচয়, শিক্ষাক্রম এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এ ধরনের ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
























