জয়পুর, ৪ জুলাই (আইএএনএস): রাজস্থানের বালোতরা জেলার পাচপদরা রিফাইনারির উদ্বোধনকে ঘিরে শনিবার ফের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার প্রকল্পটির কাজ বিলম্বিত করেছিল। এর পাল্টা জবাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে রাজনৈতিক বলে কড়া সমালোচনা করেন।
রিফাইনারি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার পর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পরই প্রকল্পের কাজ নতুন গতি পায়।
তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার শুধু প্রকল্পের শিলান্যাস করে থেমে থাকে না, দিন-রাত পরিশ্রম করে তা সম্পূর্ণও করে।”
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রিফাইনারিটি রাজস্থানের শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি আগেই শুরু হলেও ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের কংগ্রেস সরকারের আমলে কার্যত কাজ থমকে ছিল। বিজেপির শাসনব্যবস্থা শুধু ঘোষণা নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর জোর দেয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অশোক গেহলট বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করা দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি বলেন, “এটা দুঃখজনক যে প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানেও বিজেপি নেতার মতো আচরণ করেন।”
গেহলটের দাবি, কংগ্রেস সরকারের আমলে এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও রিফাইনারির নির্মাণকাজ অব্যাহত ছিল। তাঁর বক্তব্য, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার নিজেই বাজেটে ঘোষণা করেছিল যে ২০২৫ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
গেহলট প্রশ্ন তোলেন, “যদি কাজ বন্ধই থাকত, তাহলে প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হল কীভাবে?” তাঁর দাবি, রিফাইনারির উদ্বোধনও প্রায় এক বছর দেরিতে হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের দীর্ঘদিনের জলসংকটের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার স্থায়ী সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে বিজেপি ‘দেশ সবার আগে’ নীতিতে কাজ করে।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জল নিয়ে বিরোধ থাকলেও গুজরাট ও রাজস্থান নর্মদার জল ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিল।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, বর্তমানে রাজস্থান ও হরিয়ানায় বিজেপি সরকার থাকায় দুই রাজ্যের মধ্যে শেখাওয়াতি অঞ্চলে যমুনার জল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। নর্মদার জল বণ্টন চুক্তি এবং পাচপদরা রিফাইনারি প্রকল্পে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
‘বোন বসুন্ধরা রাজে’ বলে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখে সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে জোর করতালি পড়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি রাজস্থান বিজেপির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
রিফাইনারির উদ্বোধন রাজস্থানের অন্যতম বড় শিল্প প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হলেও, তা ঘিরে রাজনৈতিক কৃতিত্বের লড়াইই এদিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। বিজেপি এটিকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরলেও, কংগ্রেসের দাবি, প্রকল্পের অধিকাংশ নির্মাণকাজ তাদের আমলেই সম্পন্ন হয়েছে।
ফলে পাচপদরা রিফাইনারি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রকল্প নয়, রাজস্থানের রাজনৈতিক লড়াইয়েরও নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
























