ভোজপুর, ৩ জুলাই (আইএএনএস) : পুলিশি অভিযানে নিহত ছাত্র ও স্থানীয় সমাজকর্মী ভরত তিওয়ারির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর সভাপতি চিরাগ পাসওয়ান দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মৃতের পরিবার।
শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর চিরাগ পাসওয়ান বলেন, ভরত তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা কোনও সভ্য সমাজ বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। চিরাগ পাসওয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভরত তিওয়ারির বাবা কাশীনাথ তিওয়ারি বলেন, “ওঁর সঙ্গে আমাদের খুব ভালো কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, চিরাগজি বলেছেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে এবং গোটা দেশ এই ঘটনার বিচার প্রত্যক্ষ করবে। মৃতের ভাই চন্দন তিওয়ারিও একই ধরনের আশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে এবং কোনও অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
চন্দন তিওয়ারির দাবি, পাটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (পিএমসিএইচ)-এ তাঁর ভাইকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার ভিডিও চিরাগ পাসওয়ানকে দেখানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভরত তিওয়ারির ওপর কতবার গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সঠিক তথ্য জানানো হয়নি।
চন্দন বলেন, তাঁকে বলা হয়েছিল ভরতকে তিনবার গুলি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানিয়েছি, আসলে আমার ভাইকে পাঁচবার গুলি করা হয়েছিল। ভরত তিওয়ারির মা আশা দেবীও জানান, চিরাগ পাসওয়ান তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই ঘটনার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তিনি জানিয়েছেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন।
এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিরাগ পাসওয়ান বলেন, যেভাবে কিছু প্রশাসনিক আধিকারিকের ভূমিকার কারণে ভরত তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে, তা কোনও সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যদি আইন নিজেদের হাতে তুলে নেন, তাহলে মানুষের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব আধিকারিক নিজেদের স্বার্থে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।



















