নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, দুই দেশকে নিজেদের নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তাকাইচি ভারতের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তাঁকে “ছোট বোন” বলে সম্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “ভারত ও জাপানকে নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যখন অস্থির, তখন পরস্পরকে পরিপূরক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
তাকাইচি জানান, দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং উভয় দেশই একাধিক অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনটি মূল ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রথমত, ভারত ও জাপানের কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করা। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কেমন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, সে বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মিল রয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি সম্প্রতি হালনাগাদ ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্ডো-প্যাসিফিক নীতি ঘোষণা করেছেন, যেখানে আত্মনির্ভরতা ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির মহাসাগর উদ্যোগের প্রশংসা করে তাকাইচি বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্য এই উদ্যোগের সঙ্গে এফওআইপি-র ভাবনার পূর্ণ মিল রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সফরের সুযোগে জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের একটি ডেস্ট্রয়ার এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। এছাড়া ভারত মহাসাগরে যৌথ মহড়া বৃদ্ধি, নৌযানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও আধুনিকীকরণে সহযোগিতা এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ কর্মসূচির উল্লেখ করে তাকাইচি বলেন, ভবিষ্যতমুখী বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তোলাই ভারত ও জাপানের অভিন্ন লক্ষ্য।
২০২৭ সালে ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব-এর অধীনে এবং “বড় ভাই” প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে মিলিতভাবে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
তাঁর কথায়, “২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি হবে। এই সুযোগে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চাই। আমার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে একযোগে ভারত-জাপান সম্পর্ককে আমরা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জাপানে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় থাকব।”



















