নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও পাকিস্তানের ১১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির যৌথ আবেদনে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানের পর বিজেপি বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিল, ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত। শান্তি এবং সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ দিনেশ শর্মা বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ স্বাগত। তবে যাঁরা এই আবেদন করেছেন, তাঁদের পাকিস্তানেও গিয়ে একই বার্তা দেওয়া উচিত। ভারত কখনওই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিরোধিতা করেনি। আমাদের একটাই শর্ত—সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশ বন্ধ হতে হবে। তা নিশ্চিত হলে ভারত সবসময়ই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।”
বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়াল বলেন, “ভারত বরাবরই শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে। শান্তির মাধ্যমেই আমরা বিশ্বগুরু হতে চাই। বিশ্বের বোঝা উচিত, স্থায়ী উন্নতি যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, শান্তির মাধ্যমেই সম্ভব।”
বিজেপি নেতা নারায়ণ দত্ত ত্রিপাঠী বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপে আপত্তি নেই। তবে ইসলামাবাদ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-ও দিল্লি-লাহোর বাস পরিষেবা চালু করা-সহ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
বিজেপি নেতা বিজয় সামপলা বলেন, “এই আবেদন যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। কিন্তু অর্থবহ সংলাপের জন্য আগে সন্ত্রাসমুক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—শান্তি ও সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।”
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গুরু প্রকাশ বলেন, সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। “প্রত্যেক নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে দেশের সম্মান, মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই সরকার সব সিদ্ধান্ত নেবে।”
প্রসঙ্গত, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস-এর উদ্যোগে ভারত ও পাকিস্তানের মোট ১১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি—যাঁদের মধ্যে ৬১ জন ভারতীয় এবং ৫৬ জন পাকিস্তানি—যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দুই দেশ শান্তি, সংলাপ এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ভারতীয় স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক আবদুল্লা, মিরওয়াইজ উমর ফারুক, মেহবুবা মুফতি, মনোজ ঝা এবং প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর, যিনি বর্তমানে এজেইউপি-র সঙ্গে যুক্ত।
পাকিস্তানের স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি, প্রাক্তন কূটনীতিক আশরাফ জাহাঙ্গীর কাজি, জাতীয় পরিষদের সদস্য ইসফানইয়ার ভান্ডারা এবং পরমাণু বিজ্ঞানী পারভেজ হুদভয়।
























