নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই: পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত কিংবদন্তি পাণ্ডবানি শিল্পী তিজন বাইয়ের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন নেতা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে ছত্তিশগড়ের লোকসংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে রায়পুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিজন বাই। গত ২৭ মে থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণ, রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) এবং তীব্র কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে বলেন, তিজন বাইয়ের মৃত্যু “লোকশিল্প জগতের অপূরণীয় ক্ষতি”। তিনি বলেন, নিজের অনন্য প্রতিভা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিজন বাই পাণ্ডবানি লোকশিল্পকে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছেন। ছত্তিশগড়ের এই লোকশিল্প সংরক্ষণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই রায়পুর এইমসে গিয়ে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত, বিশ্ববিখ্যাত পাণ্ডবানি শিল্পী এবং ছত্তিশগড়ের লোকসংস্কৃতির অমর কণ্ঠ তিজন বাইয়ের প্রয়াণ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁর মৃত্যু শুধু লোকশিল্পের নয়, ছত্তিশগড় তথা সমগ্র দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি।”
তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিজন বাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
ছত্তিশগড়ের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপও শোকপ্রকাশ করে বলেন, তিজন বাইয়ের প্রয়াণে রাজ্যের লোকসংস্কৃতি তার সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বরকে হারাল। তাঁর শিল্পকর্ম পাণ্ডবানি এবং ছত্তিশগড়ের লোকঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও শোকবার্তায় বলেন, তিজন বাই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, শক্তিশালী পরিবেশন ও সঙ্গীতসাধনার মাধ্যমে ছত্তিশগড়ের পাণ্ডবানি লোকধারাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ভারতীয় লোকশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেন, তিজন বাই তাঁর অনন্য প্রতিভা ও নিরলস সাধনার মাধ্যমে পাণ্ডবানি শিল্পকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় লোকসংস্কৃতিকে নতুন মর্যাদা এনে দিয়েছিলেন। তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল বলেন, “ছত্তিশগড়ের অমূল্য রত্ন” তিজন বাইয়ের মৃত্যু ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য এক গভীর ক্ষতি। তিনি তাঁর কণ্ঠে পাণ্ডবানি শিল্পকে জীবন্ত রেখেছিলেন এবং বিশ্বমঞ্চে ছত্তিশগড়কে গৌরবান্বিত করেছিলেন।
ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীপক বৈজও শোকপ্রকাশ করে বলেন, তিজন বাইয়ের প্রয়াণ শুধু ছত্তিশগড় নয়, সমগ্র দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
১৯৫৬ সালে ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের কাছে গনিয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিজন বাই। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীতে পরিণত হন। মহাভারতের কাহিনি গীত ও নাটকীয় পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরার লোকশিল্প ‘পাণ্ডবানি’-কে তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন।
তাঁর দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি ১৯৮৮ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৯ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া ১৯৯৫ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার-সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মান লাভ করেন।
সূত্র: আইএএনএস



















