কৈলাশহর, ৭ জুলাই: কৈলাশহর মহকুমার লক্ষীপুর মৌজার অন্তর্গত ১০৯০ খতিয়ানের ১৭৮০ নম্বর লং প্লট সংলগ্ন পূর্ত দপ্তরের ড্রেন ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুবঝার এলাকায়। অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই নয়নজলির একটি অংশ ভরাট করে দেওয়ায় শহরের বৃষ্টির পানি ও নিকাশি জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা দিলওয়ার হোসেন বাচ্চুর মালিকানাধীন জমির সামনের অংশ দিয়ে পূর্ত দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন প্রবাহিত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই নয়নজলির মাধ্যমেই শহরের বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির পানি ও নিকাশি জল নিষ্কাশন হয়। সম্প্রতি ওই নয়নজলির একটি অংশে মাটি ফেলে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যার ফলে জল প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ জুলাই লক্ষীপুর তহশিলের তহশিলদারের নেতৃত্বে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তহশিলদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাঁর বক্তব্য, হেনা বেগম নামে এক ব্যক্তি দিলওয়ার হোসেন বাচ্চুর জমির সামনের অংশে অবস্থিত ড্রেনের ওপর মাটি ফেলে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে জমির মালিক দিলওয়ার হোসেন বাচ্চু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার জমির সামনের অংশ ভরাট করা হয়েছে ঠিকই, তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকেই ভুলবশত আমাকে দায়ী করছেন। আমার প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী এই কাজ করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি। প্রশাসন যদি ভরাট করা মাটি সরিয়ে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে দেয়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনটি ভরাটের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত নয়নজলি থেকে মাটি অপসারণ করে স্বাভাবিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এখন তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং শহরের জল নিষ্কাশনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়, সেদিকেই নজর এলাকাবাসীর।
























