নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস): দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা হাওড়া পুরসভা (এইচএমসি) ও বালি পুরসভার নির্বাচনের ঘোষণা স্বাগত জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট পুর সংস্থাগুলিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত নাগরিক পরিষেবা পাবেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, বহু বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় রাজ্য সরকারের নিযুক্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে পুরসভাগুলি পরিচালিত হচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয়।
তিনি বলেন, “এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কিছু পুরসভা ও পুরনিগমে সাত, আট, এমনকি নয় বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় মানুষ প্রাপ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এতদিন প্রশাসনের মাধ্যমে এই সংস্থাগুলি পরিচালিত হয়েছে। আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক নীতি মেনে প্রশাসনের দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখনও বহু পুরসভা ও পুরনিগম রয়েছে যেখানে ছয় থেকে আট বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। খুব শীঘ্রই সেখানেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর পর হাওড়া পুরসভা ও বালি পুরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, হাওড়া পুরসভা ও বালি পুরসভার শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। তারপর থেকে নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের নিযুক্ত প্রশাসকদের মাধ্যমেই এই দুই পুর সংস্থার কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে।
এদিকে, বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত মিছিল প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কারও ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, “আমি আগেই বলেছি, সবাই সেখানে যেতে পারেন। কেউ চাইলে যান, কাউকে আটকানো হচ্ছে না। আমরা কিছুই গোপন করছি না। ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটেছে এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপও স্বচ্ছভাবে নেওয়া হয়েছে। গত ৫০ বছরে কোনও সরকার এভাবে ব্যবস্থা নেয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এখন বিরোধী নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় সেখানে গিয়ে ছবি তুলছেন এবং বক্তব্য রাখছেন।”
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ৮ জুলাই মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত সেই মিছিলের অনুমতি দিয়েছে। মিছিলে নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবি তোলার পাশাপাশি রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে।
–আইএএনএস
























