ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই (আইএএনএস): ভারত-ভিত্তিক সংগঠিত অপরাধচক্র উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের খুন, তোলাবাজি, অপহরণ এবং ভয় দেখিয়ে অপরাধচক্র বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর আওতায় দাখিল হওয়া একাধিক ফেডারেল চার্জশিটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, তিনটি আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে র্যাকেটিয়ারিং, খুন, অপহরণ, তোলাবাজি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার এবং বৃহৎ মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বহুজাতিক অভিযানে ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে সাংবাদিক বৈঠকে ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিলাল এ. এসাইলি বলেন, এই অপরাধচক্রগুলি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিশেষভাবে নিশানা করেছিল। অভিযোগ, ভারতে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও শারীরিক ক্ষতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
চার্জশিটে লরেন্স বিষ্ণোই সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভারত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে তারা পরিকল্পিতভাবে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাত। পরে সেই ভয়কে কাজে লাগিয়ে তোলাবাজি করা হতো।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, অপরাধচক্রটি তাদের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ভিডিও, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে নিজেদের প্রভাব ও ভয়ের পরিবেশ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করত।
চার্জশিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সর্বাধিক প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত এবং বিদেশে বসবাসকারী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করা হতো, যাতে ভবিষ্যতে তোলাবাজি আরও সহজ হয়।
অভিযোগপত্রে ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরে এক খালিস্তানি জঙ্গি, যাকে আদালতের নথিতে শুধু “এইচ.এস.এন.” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে হত্যার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই এবং উত্তর আমেরিকায় তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার।
এছাড়া, ভ্যাঙ্কুভারে এক বিশিষ্ট ভারতীয় অভিনেতা ও গায়কের (চার্জশিটে “আর.জি.” নামে উল্লেখ) বাড়িতে গুলি চালানোর দায়ও ওই গোষ্ঠী স্বীকার করেছিল বলে অভিযোগ। পরে ওই ব্যক্তির কাছ থেকেও তোলাবাজির চেষ্টা করা হয়।
চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে এক খ্যাতনামা ভারতীয় গায়ক ও র্যাপার (যাকে “এস.এস.এস.” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) হত্যার দায়ও এই গোষ্ঠী নিয়েছিল।
এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এক জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্বকে (চার্জশিটে “এস.কে.” নামে উল্লেখ) হত্যার হুমকি একাধিকবার প্রকাশ্যে দিয়েছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই। তদন্তকারীদের দাবি, এসব হুমকি ও হামলার উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, অভিযুক্তরা সরকারি তথ্যভান্ডার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নজরদারির মাধ্যমে সম্ভাব্য শিকারদের চিহ্নিত করত। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ-সহ এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো।
অন্য একটি চার্জশিটে জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অপরাধচক্রের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, এই চক্রটি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের টার্গেট করার পাশাপাশি ভারতে কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পরে সেই মামলা তুলে নেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করত।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করেছে।
–আইএএনএস
























