জাকার্তা, ৮ জুলাই (আইএএনএস): ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রাক্কালে এশিয়াজুড়ে অভিন্ন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারতের উদ্যোগ আবারও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে ভারত।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যোগ্যাকার্তার ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বিনিময় হয়।
দশম শতকে নির্মিত প্রাম্বানান ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। মূলত ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা এই মন্দিরে শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার জন্য পৃথক মন্দির রয়েছে। পাশাপাশি রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনি খোদাই করা অসাধারণ ভাস্কর্য ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে।
মন্দির কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে রয়েছে ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির, যা প্রাচীন হিন্দু স্থাপত্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন। একসময় এই কমপ্লেক্সে মোট ২৪০টি মন্দির ছিল।
কেন্দ্রের দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে বিভিন্ন দেশে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার সংরক্ষণে ভারত ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে।
বাংলাদেশে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এ ধ্বংস হওয়া ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির পুনর্নির্মাণে ভারত সহায়তা করে। ২০২১ সালে মন্দিরটি পুনরায় উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া নাটোরের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো জয় কালী মাতার মন্দির, আনন্দময়ী কালী মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মন্দিরের সংস্কারেও ভারতের অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনামে, ২০১৪ সালের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ইউনেস্কো স্বীকৃত মাই সন অভয়ারণ্যের সংরক্ষণে কাজ শুরু করে ভারত। এটি প্রাচীন চম্পা সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৈব ধর্মীয় কেন্দ্র।
মিয়ানমারে, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাগান প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল পুনরুদ্ধারে কাজ করে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই)। সেখানে ১২টি ঐতিহাসিক প্যাগোডা ও বিখ্যাত আনন্দ মন্দিরের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
নেপালে, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভারতের ৫ কোটি মার্কিন ডলারের পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় ২৮টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সংস্কার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সেতো মচ্ছিন্দ্রনাথ মন্দির এবং বুধানীলকণ্ঠ মন্দির ধর্মশালা।
কম্বোডিয়ায়, ২০২২ সাল থেকে আঙ্কোর হেরিটেজ কমপ্লেক্স, তা প্রোহম, আঙ্কোর ওয়াট এবং প্রেয়াহ বিহার-এর সংরক্ষণে ভারত সহযোগিতা করছে।
লাওসে, প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো ইউনেস্কো স্বীকৃত ভাট ফু শিব মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুদ্ধার করেছে ভারত।
বাহরিনে, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরে মানামার ২০০ বছরের পুরনো শ্রীনাথজি (শ্রীকৃষ্ণ) মন্দিরের ৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
শ্রীলঙ্কায়, ২০১৫ সালের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা ঐতিহাসিক তিরুকেতীশ্বরম মন্দিরের সংস্কারে ৩২৬ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি অনুদান দিয়েছে ভারত।
ভারত সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ নয়, বরং এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টারই অংশ।
























