জাকার্তা, ৮ জুলাই (আইএএনএস): ইন্দোনেশিয়া সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল উদ্ভাবন, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইন্দোনেশিয়া সফরের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সে দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি লেখেন, “ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জনগণ এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হলে বিশেষ সৌজন্য দেখিয়ে জাকার্তা বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিদায়ের আগে দুই নেতা উষ্ণ আলিঙ্গনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইন্দোনেশিয়া সফরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা ভারত-ইন্দোনেশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করেছে।
এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাষ্ট্রপতি প্রাবোও যৌথভাবে যোগ্যাকার্তার ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সংরক্ষণ প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাম্বানান মন্দির ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতীক। এই ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি প্রাবোওর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, মহাকাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে উভয় দেশ তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সফরকালে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, ইস্পাত সরবরাহ শৃঙ্খল, বিরল খনিজ, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও বিনিময় হয়েছে। (আইএএনএস)



















