ইসলামাবাদ, ৮ জুলাই (আইএএনএস): বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তানের করাচি। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর প্রকাশিত গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬-এ ১৭৩টি শহরের মধ্যে করাচির স্থান হয়েছে ১৭০তম।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করাচির নিচে রয়েছে শুধু বাংলাদেশের ঢাকা, সিরিয়ার দামাস্কাস এবং লিবিয়ার ত্রিপোলি। স্বাস্থ্যসেবা, স্থিতিশীলতা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো—এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলির বাসযোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে করাচির মোট স্কোর ১০০-র মধ্যে ৪৩। স্থিতিশীলতায় মাত্র ২০, স্বাস্থ্যসেবায় ৫৪, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৩৬, শিক্ষায় ৭৫ এবং অবকাঠামোয় ৫২ নম্বর পেয়েছে শহরটি।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন। দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে আশুরা উপলক্ষে করাচির বহু এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে সেহরি ও ইফতারের খাবার প্রস্তুত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা। যদিও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা কে-ইলেকট্রিক বেশ কয়েকটি এলাকাকে লোডশেডিং-মুক্ত রাখার দাবি করেছিল, বাস্তবে শহরের বহু অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা যায়।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হয়, কারণ পানি তোলার পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
অপরাধ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সিটিজেনস-পুলিশ লিয়াজোঁ কমিটি-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে করাচিতে ৬১১টি গাড়ি, ১৩,৩৪৬টি মোটরসাইকেল এবং ৫,৫৬৭টি মোবাইল ফোন ছিনতাই বা চুরি হয়েছে। একই সময়ে খুনের ঘটনায় ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬১টি চাঁদাবাজির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবকাঠামোগত সমস্যা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নাগরিক পরিষেবার ঘাটতির কারণে করাচির বাসযোগ্যতা ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে।



















