নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস): কেনিয়ায় ১১৭ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিং মূল্যের বিদ্যুৎ সঞ্চালন (পাওয়ার ট্রান্সমিশন) প্রকল্পে আদানি এনার্জির অনুমোদন আফ্রিকার দেশটির অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূ-তাপীয়, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কেনিয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর অভাবে সেই বিদ্যুতের পূর্ণ সদ্ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। আদানি এনার্জির সহায়তায় আধুনিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন আফ্রিকার বড় অবকাঠামো প্রকল্পে পশ্চিমা সংস্থা ও চীনের প্রভাব বেশি ছিল। তবে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি কেনিয়ার সামনে একটি বিকল্প অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভিন্নধর্মী কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ মডেলের তুলনায় আদানি এনার্জি একটি বেসরকারি সংস্থা হলেও ভারতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের সামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে এই মডেল কেনিয়াকে আলোচনায় আরও নমনীয়তা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি সুবিধা দিতে পারে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকেও কেনিয়া কেবল একটি বাজার নয়; এটি পূর্ব আফ্রিকার প্রবেশদ্বার এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। কেনিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা ভারতের আফ্রিকায় সংযোগ, বাণিজ্য ও প্রভাব বৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত ও কেনিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও অভিবাসনভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় কেনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই বিদ্যুৎ প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



















