কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : ভুলবশত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছে যাওয়ার পর গুপ্তচর সন্দেহে দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মানসিকভাবে অসুস্থ এক বৃদ্ধ। অবশেষে অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি এখন ভারতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
এই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের অপেশাদার বেতার (হ্যাম) রেডিও অপারেটররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সি ওই ব্যক্তিকে গত ১০ মার্চ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রংপুর জেলার একটি জাতীয় সড়কের ধারে উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের হ্যাম রেডিও অপারেটররা তাঁর দায়িত্ব নেন, তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক দেন এবং পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের (ডব্লিউবিআরসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই সংস্থাটি অপেশাদার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনে কাজ করে।
তবে কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মানসিকভাবে অসুস্থ সেজে ওই ব্যক্তি আসলে ভারতের একজন গুপ্তচর। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বাংলাদেশের হ্যাম রেডিও অপারেটররা তদন্তে সহযোগিতা করেন এবং প্রমাণ করেন যে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে কোনও ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির সম্পর্ক নেই।
প্রায় চার মাস ধরে চলা যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, প্রথম থেকেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে তিনি ভারতের নাগরিক। তবে তিনি নিজের পরিবারের কোনও তথ্য দিতে পারেননি। পরে তাঁর ছবি ও বিবরণ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার একটি পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে।
মালদহের চাঁচলের বাসিন্দা বিক্রম ঋষি পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, ওই ব্যক্তি তাঁর কাকা তিনকড়ি ঋষি। বিক্রমের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে মালদহের ঘোষপাড়ার বাড়ি থেকে মানসিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকা তাঁর কাকা নিখোঁজ হয়ে যান। বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিচয় প্রমাণের জন্য বিক্রম তিনকড়ি ঋষির আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্রের (ইপিক) অনুলিপিও জমা দিয়েছেন, যা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের অপেশাদার বেতার অপারেটর জয়নুল আবেদিন টিংকারি ঋষির দেখভাল করছেন। তিনি এখন রংপুরের পীরগাছা রেলস্টেশন এলাকায় থাকছেন এবং নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধকে ভারতে ফেরানোর জন্য কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে খুব শীঘ্রই তিনি নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবেন। বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য বিষয়টি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
























