আঙ্কারা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : ইরান হামলা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ (নেভাল ব্লকেড) জারি করারও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলেও জানান ট্রাম্প।
আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে এবং পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সময় ট্রাম্প সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সওয়াল করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, শেষকৃত্যের সময় সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এরপর তেহরান আবার হামলা শুরু করে।
তিনি বলেন, তারা আমাদের অনুরোধ করেছিল শেষকৃত্যের সময় যেন হামলা না করা হয়। আমরা তা মান্য করেছি। বরং তাদের জন্য পরিস্থিতি নিরাপদও করেছি। কিন্তু পরে তারা আবার জাহাজ লক্ষ্য করে রকেট হামলা শুরু করে। ট্রাম্প জানান, এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, গত রাতে আমরা তাদের ওপর খুবই কঠোর হামলা চালিয়েছি। আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি—তোমরা যতবার হামলা করবে, আমরাও ততবার পাল্টা আঘাত হানব। আরও হামলা চালানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আজ রাতেও আমরা জোরালো হামলা চালাব।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে পাইপলাইন বাদ দিয়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল এমন ইরানি সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তাঁর কথায়, ছোট নৌযান, ভূগর্ভস্থ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ কেন্দ্র, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং নজরদারি কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে আবার তা ফিরিয়ে আনতে পারি এবং সেটি শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, আমার মতে বিষয়টি কার্যত শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই না। তারা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারা মিথ্যা বলে। আমরা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছই, কিন্তু বাইরে গিয়ে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছেন না বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন।
এর আগে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে “বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে মদতদাতা রাষ্ট্র” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরানকে কখনওই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, মার্ক রুটে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই জবাব প্রয়োজনীয় ছিল। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা শুধু ইজরায়েল বা পশ্চিম এশিয়ার জন্য নয়, ইউরোপ এবং গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



















