কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন উত্তেজনার মধ্যে মেজাজ হারিয়ে এক দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিল ঘিরে “চোর চোর” স্লোগান ওঠে এবং বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের একাধিক কর্মীর উপর হামলা চালানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সেই সময় এক দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারতে দেখা যায়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, সেটি তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না।
বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বারুইপুরের প্রতিবাদকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-যুবরা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে। প্রত্যেকেরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির দুষ্কৃতীরা আমার বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করেছে, স্লোগান দিয়েছে এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। সরকার ঠিকভাবে চালান।
তাঁর অভিযোগ, আমাদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। পুলিশ আমাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। আমাদের হ্যান্ড মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টা থেকেই ডিজে বাজানো হয়েছে। ভাড়া করা দুষ্কৃতীদের এনে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমার বাড়ি থেকে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি পর্যন্ত মেয়েদের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁদের বাঁচাতেই আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে হয়েছে। আমি দেখেছি, বহু তরুণীর গাল ও বুক থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। বাংলার মানুষ কি এই পরিবর্তন চেয়েছিলেন? আমরা চাই ধর্ষণের ঘটনা কমুক, অত্যাচার কমুক।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি বিজেপিকে দোষ দিচ্ছি না, দোষ পুলিশের। নিরাপত্তা দেওয়া তাদের দায়িত্ব ছিল। বিজেপি কর্মীদের মিছিলে ঢুকতে দেওয়া হল কেন? আইন কোথায়? উত্তরপ্রদেশে আরও বেশি অশান্তি রয়েছে। এই ঘটনা আদালত অবমাননার সামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি।



















