গুয়াহাটি/আগরতলা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ব্যাপক থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। বিশেষ করে অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং ত্রিপুরায় প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আবহাওয়া সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে।
আইএমডির বুধবার প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার এবং আগামী ১০ থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে অসম ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
এছাড়া ১০ থেকে ১৪ জুলাই অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এদিকে, অরুণাচল প্রদেশে নতুন করে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের জেরে একাধিক জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের ২৬টি জেলার ৯৪ হাজার ২০০-রও বেশি মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ইটানগরের স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এসইওসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চাংলাং জেলায় প্রবল বৃষ্টির ফলে ভূমিধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আপার সুবনসিরি এবং আপার সিয়াং জেলাও বন্যা ও একাধিক ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্ব কামেং জেলায় টানা বৃষ্টির কারণে পাথর ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে অরুণাচল প্রদেশে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২১ জন এবং এখনও দুই মহিলা নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন।
অন্যদিকে, ত্রিপুরায় বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরা, খোয়াই, ধলাই এবং গোমতী জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা (অরেঞ্জ) সতর্কতা জারি করেছে আইএমডির আগরতলা আবহাওয়া কেন্দ্র।
রাজ্যের বাকি চারটি জেলার জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ (ইয়েলো) সতর্কতা। এছাড়া ৯ জুলাই ত্রিপুরার সবকটি জেলার জন্য এবং ১০ জুলাই পশ্চিম ত্রিপুরা, খোয়াই, সিপাহিজলা, গোমতী ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের জেরে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যাওয়ায় যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দু’দিন দেরিতে, অর্থাৎ ৭ জুন উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবেশ করে এবং ১০ জুনের মধ্যে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিস্তার লাভ করে।
তবে বর্তমানে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও জুন মাসে সিকিম ছাড়া উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি সাতটি রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বঙ্গোপসাগরে দুর্বল বৃষ্টিবাহী আবহাওয়া ব্যবস্থা, সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার অনুপস্থিতি এবং এল নিনোর প্রভাবে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রথম মাস জুনে উত্তর-পূর্ব ভারতে সামগ্রিকভাবে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃষ্টির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। একমাত্র সিকিমেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে জুন মাসে স্বাভাবিক ৪৩৮.২ মিলিমিটারের বিপরীতে ৫১৫.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড় (এলপিএ)-এর ৯৪ শতাংশেরও কম থাকতে পারে, অর্থাৎ সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের নিচে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















