নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই (আইএএনএস): ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) ব্যবহারের ফলে কিছু গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বা মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এর বিনিময়ে উন্নত কর্মক্ষমতা, কম দূষণ এবং ইঞ্জিনের ভালো কার্যকারিতাসহ একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে শুক্রবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।
এক বিস্তারিত বিবৃতিতে মন্ত্রক জানায়, ই-২০ জ্বালানির অকটেন রেটিং বেশি হওয়ায় এটি উন্নত অ্যান্টি-নক বৈশিষ্ট্য, দ্রুত দহন, ভালো পিক-আপ, মসৃণ অ্যাক্সিলারেশন এবং ইঞ্জিনকে আরও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই শুধু মাইলেজের ভিত্তিতে এই জ্বালানির মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
মন্ত্রকের দাবি, ই-১০ উপযোগী যানবাহনের জন্য ২০২০-২১ সাল থেকেই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ভারত ২০২২ সালের জুন মাসেই নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস আগে ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (ই-১০) লক্ষ্য অর্জন করে।
ই-২০ চালুর আগে আরও বিস্তৃতভাবে গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী, পরীক্ষাগার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ২০২১ সালেই এই বিষয়ে রোডম্যাপ প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল।
মন্ত্রকের বক্তব্য, ইঞ্জিনের উপাদানের সামঞ্জস্য, ইঞ্জিন ক্যালিব্রেশন, জ্বালানি ব্যবস্থা, গাড়ির কর্মক্ষমতা, স্থায়িত্ব, নির্গমন এবং জ্বালানি দক্ষতাসহ প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি সন্তুষ্ট না হলে তারা কখনও ই-২০ সমর্থন করত না বা গাড়ির ওয়ারেন্টি বহাল রাখত না। বর্তমানে প্রায় সব নির্মাতাই পুরনো ও নতুন উভয় ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রেই ওয়ারেন্টি বজায় রেখেছে।
মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারা ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে, যার মধ্যে ১.৫ কোটি ছিল ই-২০ অনুমোদনবিহীন পুরনো গাড়ি। তবুও ই-২০ ব্যবহারের ফলে কোনও ক্ষয়, অস্বাভাবিক যন্ত্রাংশের ক্ষতি বা ইঞ্জিনের আয়ু কমে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। হিরো মোটোকর্পও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, ই-২০ জ্বালানি থেকে প্রায় কোনও ক্ষুদ্র কণাযুক্ত দূষণ (পার্টিকুলেট এমিশন) হয় না এবং এর জীবনচক্রভিত্তিক কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
প্রিমিয়াম পেট্রোলের সঙ্গে ই-২০-র তুলনা প্রসঙ্গে মন্ত্রক জানায়, প্রিমিয়াম জ্বালানি সীমিত পরিসরে বিশেষ সংযোজক মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে সারা দেশে একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পেট্রোল, ই-১০ এবং ই-২০-এর জন্য আলাদা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সরকারি ব্যাংকগুলি ইথানল উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগে অর্থায়ন করেছে। দেশের ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণে ডেডিকেটেড ইথানল প্ল্যান্ট, ডিস্টিলারি, সংরক্ষণাগার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
























