নয়াদিল্লি/বেঙ্গালুরু, ১০ জুলাই: (আইএএনএস) বেঙ্গালুরুর গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি (জিবিএ)-র আওতাধীন পুরনিগমগুলির নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে কর্নাটক সরকার। চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আদালতকে জানিয়েছে রাজ্য।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, ৩১ আগস্টের মধ্যে বেঙ্গালুরুর দীর্ঘদিনের বকেয়া পুরভোট সম্পন্ন করতে হবে। তবে রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমানে প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মী ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই সময়সীমা মেনে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, জিবিএ নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ৫৬ হাজার সরকারি কর্মী প্রয়োজন। এই কর্মীদের মধ্যে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-সহ অধিকাংশই বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত রয়েছেন।
রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুতে ১.০৩ কোটিরও বেশি ভোটার রয়েছেন। এসআইআর কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক ভোটারের কাছে গণনা-সংক্রান্ত ফর্ম পৌঁছে দেওয়া, সংগ্রহ এবং যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটির মুখ্য কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের কাছে পুরভোটের সময়সীমা ৩১ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করার আবেদন জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার বলেন, সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির কারণে বাস্তব কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত আমাদের নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এসআইআর কর্মসূচির কারণে কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি আধিকারিকদের উপর ছেড়ে দিয়েছি। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, এর আগেও বেঙ্গালুরুর পুরভোট পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে কর্নাটক সরকার। গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি আইনের অধীনে জিবিএ-র আওতায় পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট বেঙ্গালুরুর পুরভোটে লাগাতার বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং বারবার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এর আগে আদালত কর্নাটক সরকারকে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে গড়িমসি করার কৌশল’ গ্রহণের জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল। শেষবারের মতো ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এরপর আর কোনও সময়সীমা বাড়ানো হবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ ওই নির্দেশ দিয়েছিল। কর্নাটক সরকারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জনগণনা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন কর্মসূচির কারণে জনবলের ঘাটতির বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেছিলেন।


















