গান্ধীনগর, ১০ জুলাই (আইএএনএস): আগামী তিন মাসের মধ্যেই আমদাবাদ-ঢোলেরা এক্সপ্রেসওয়েকে ভাভনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি।
বৃহস্পতিবার গান্ধীনগরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের সঙ্গে জাতীয় সড়ক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা করেন।
বৈঠকে জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে গুজরাট সরকারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তাও পর্যালোচনা করেন গড়করি। মুখ্যসচিব এম. কে. দাস এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা এস. এস. রাঠোর আগের সিদ্ধান্তগুলির বাস্তবায়ন সম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করেন। অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
পর্যালোচনায় যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি উঠে আসে, তার মধ্যে ছিল ভাদোদরা-মুম্বই জাতীয় সড়ক-৪৮-এর ছয় লেন সম্প্রসারণ, সামাখিয়ালি-মালিয়া সড়ক, রাজকোট-গোন্ডল-জেতপুর সড়ক, আমদাবাদ-ভাদোদরা এক্সপ্রেসওয়ে, আমদাবাদ-গোধরা-ইন্দোর সড়ক, জামনগর-অমৃতসর এক্সপ্রেসওয়ে, পালনপুর-সামাখিয়ালি করিডর এবং আমদাবাদ-শ্যামলাজি ছয় লেন প্রকল্প।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর অধীনে চলা প্রকল্পগুলির পর্যালোচনার সময় গড়করি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই আমদাবাদ-ঢোলেরা এক্সপ্রেসওয়েকে ভাভনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে।
তিনি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিকাঠামো তহবিল (সিআরআইএফ)-এর আওতায় জাতীয় সড়ক প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেতে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর জন্য গুজরাট সরকারকে আহ্বান জানান।
সড়ক প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সহজ করতে ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির সময় ৬০ দিন পর্যন্ত অ-কৃষি (এনএ) অনুমোদনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার গুজরাট সরকারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন গড়করি। তাঁর মতে, এই মডেল দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেন, বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের ফলে জমি অধিগ্রহণ এবং সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পালনপুর-সামাখিয়ালি করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার আবেদন জানান।
পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে গড়করি বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের সময় যে গাছগুলি প্রভাবিত হবে, সেগুলিকে সম্ভব হলে একই সড়কের ধারে অন্যত্র প্রতিস্থাপন করা উচিত। এতে একদিকে যেমন রাস্তা প্রশস্ত হবে, অন্যদিকে সবুজ পরিবেশও সংরক্ষিত থাকবে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


















