নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই : বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। সাথে আওয়ামী লিগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও থাকবেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর দাবি, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হলেও তিনি নিজ দেশে ফিরতে চান।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এবং আওয়ামী লিগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতের সামনে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে দেশে ফিরলেই গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হতে পারে। তবুও আমাকে ফিরতে হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাঁদের রক্ত মিশে আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে তাঁর কথিত ভূমিকার অভিযোগে অনুপস্থিত অবস্থায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবে শেখ হাসিনা শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বর্তমানে ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ আমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরে যাব। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি।
শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর কথায়, আমি বিচারব্যবস্থার উপর বিশ্বাস রাখি। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষ নিজেরাই বুঝতে পারবেন আদালতের প্রক্রিয়া কতটা প্রহসনের। সেটাই আমি প্রমাণ করতে চাই।
তবে তিনি ঠিক কোন তারিখে বাংলাদেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, তা স্পষ্ট করেননি।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কারাবাস নিয়ে তাঁর কোনও ভয় নেই। রাজনৈতিক জীবনে অতীতেও তিনি একাধিকবার কারাবন্দি হয়েছেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও তাঁকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পুনরায় ক্ষমতায় ফেরেন।
শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে বৈঠক করছেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ দুই দশকের শাসনকাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সরকার পরিচালনা করলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।



















