আগরতলা, ১০ জুলাই: দুই দিনব্যাপী ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬ রাজ্যের বৃহত্তম বিনিয়োগ সম্মেলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই কনক্লেভে দেশ-বিদেশের ২,৭০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন এবং মোট ৩৪২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১,২১,৩০৩ কোটি।
শুক্রবার কনক্লেভের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে। তিনি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক প্রচার ও জনসংযোগের ফলেই এই বিপুল সাড়া মিলেছে।
কিরণ গিত্তে জানান, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে এই কনক্লেভের প্রস্তুতি চলেছে। শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমার নেতৃত্বে দিল্লিতে বিনিয়োগ রোড শো দিয়ে এই প্রচার শুরু হয়। পরে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, গুয়াহাটি সহ বিভিন্ন শহরে এফআইসিসিআই এবং অন্যান্য শিল্প সংস্থার সহযোগিতায় প্রচার চালানো হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কনক্লেভে মোট ২,৭৩১টি রেজিস্ট্রেশন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ জন সরকারি আধিকারিক এবং প্রায় ২,০০০ জন বিনিয়োগকারী ছিলেন, যারা প্রায় ১,২০০টি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশ ছাড়াও দুবাই ও কানাডা থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্রদূত, ডেপুটি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সচিব জানান, কনক্লেভে প্রচলিত দপ্তরভিত্তিক স্টলের পরিবর্তে এবার ২৯টি থিমেটিক প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে ৪৫টি রাজ্য সরকারি দপ্তর, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং সরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়। ভাইব্র্যান্ট গুজরাট, ম্যাগনেটিক মহারাষ্ট্র, অ্যাডভান্টেজ আসাম এবং রাইজিং নর্থ-ইস্টের মতো বিনিয়োগ সম্মেলনের ধাঁচে এই নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিজনেস-টু-গভর্নমেন্ট বৈঠক, যেখানে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পান। তাঁর মতে, বড় বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রীদের সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করা হয়েছে।
কিরণ গিত্তে আরও জানান, গত দুই বছরে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে ত্রিপুরার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। গত চার বছরে রাজ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ৪৭০টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক সংস্কারের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। তবে এখন সেই সংস্কারকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপান্তর করাই প্রধান লক্ষ্য।
খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আটটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে এল এন্ড টি-এর সহযোগিতায় অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল সাবরুমে গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও উত্তর ত্রিপুরায় ক্যান্সার হাসপাতাল এবং দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুগল-এর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্পগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, আইটি পার্ক এবং ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মাধ্যমে বহু-খাতভিত্তিক ১১০টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রায় ₹৩০ হাজার কোটি।
সর্বমোট ৩৪২টি মউ-এর মাধ্যমে ১,২১,৩০৩ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এসেছে, যা মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা ঘোষিত ₹১ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তবে কিরণ গিত্তে স্পষ্ট করেছেন, এই পরিসংখ্যান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এফআইসিসিআঔ-এর সঙ্গে যৌথভাবে তথ্য যাচাইয়ের পর ১২ জুলাই চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান, যাচাইয়ের সময় কোনো দ্বৈত তথ্য থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে এবং বাকি তথ্য যুক্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
।।।।।।।



















