আগরতলা, ১০ জুলাই: রাজ্য সরকারের একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে বারবার পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। শুক্রবার বিধানসভার নিজকক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে পুনরায় দায়িত্বে বহাল রাখা হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যের প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক অনিন্দ্য কুমার ভট্টাচার্যকে এখন পর্যন্ত সাতবার পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্পেশাল সেক্রেটারি পদে থেকে জিএপিএলটি-র দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো টিএ বিল সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের অধিকর্তা থাকাকালীন এসডিআরএফ-এর তহবিল থেকে সাতটি ড্রোন কেনা হয়েছিল অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই ড্রোনগুলি বাস্তবে কোনও অগ্নিকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। এমনকি কোনও মহড়াতেও সেগুলির ব্যবহার দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া বড়জলার একটি গ্যারেজে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। বর্তমানে ওই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ডিরেক্টর পদেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।
বিরোধী দলনেতা আরও দাবি করেন, গত ৭ জুলাই ভিজিল্যান্স বিভাগের টিপিএস গ্রেড-১ আধিকারিক জেরিমি ডার্লং পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের চাপ ও অপমানজনক আচরণের কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, একজন তফসিলি জাতিভুক্ত আধিকারিককে এভাবে অপদস্থ করা আইনত গুরুতর অপরাধ এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীর বিষয়ও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীও এখন পর্যন্ত আটবার পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিলোনিয়া মহকুমার শাসক থাকাকালীন জমি জালিয়াতির অভিযোগে জড়িয়েছিলেন বলেও দাবি করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। পাশাপাশি তাঁর নামে আগরতলা শহর ও শহরের বাইরে একাধিক জমি রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সবশেষে বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন তোলেন, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন আমলাকেই কেন বারবার পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে সরকারের কী যুক্তি রয়েছে। তিনি অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।



















